
ঢাকার ধামরাইয়ে গভীর রাতে এক ইলেকট্রেশিয়ানের বাড়িতে বারান্দার গ্রিল কেটে এক দল ডাকাত হানা দিয়ে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইলসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটে নিয়েছে। ডাকাতদের বাধা দিতে গিয়ে দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত জখম হয়েছেন বাড়ির মালিক নিজেই।
ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের দেপাশাই দত্তখোলা গ্রামে শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এই দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পাশের একটি মুরগির ফার্মের দুই শ্রমিককে আটক করেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেপাশাই দত্তখোলা গ্রামের বাসিন্দা পেশায় ইলেকট্রেশিয়ান শাহিনুর ইসলামের বাড়িতে শুক্রবার মধ্যরাতে একদল অজ্ঞাতপরিচয় ডাকাত হানা দেয়। ডাকাত দলটি প্রথমে অত্যন্ত সুকৌশলে বারান্দার লোহার গ্রিল কেটে ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা শাহিনুরের মায়ের ঘরে ঢুকে তল্লাশি চালিয়ে আলমারিতে রাখা নগদ ৪ লাখ টাকা এবং প্রায় দুই ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেয়। মায়ের ঘর লুটের পর ডাকাতরা শাহিনুরের শোবার ঘরে প্রবেশ করে মূল্যবান সামগ্রী খোঁজাখুঁজি শুরু করে। এ সময় বিছানায় থাকা মোবাইল ফোনটি নেওয়ার চেষ্টা করলে হঠাৎ শাহিনুরের ঘুম ভেঙে যায়। ঘরে অপরিচিত মানুষ দেখে তিনি অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে এক ডাকাতকে জাপটে ধরেন। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই অন্য ডাকাতরা তাদের সঙ্গীকে ছাড়াতে শাহিনুরের ওপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে চড়াও হয় এবং তার হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে ও আঘাত করে জখম করে। একপর্যায়ে শাহিনুরের গোঙানি ও চিৎকার শুনে বাড়ির অন্য সদস্য এবং প্রতিবেশীরা ছুটে আসতে থাকলে ডাকাত দল লুণ্ঠিত নগদ টাকা, স্বর্ণ ও মোবাইলসহ প্রায় ৭ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে দ্রুত অন্ধকার রাতে পালিয়ে যায়।
খবর পেয়ে শনিবার সকালে ধামরাই থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ করে। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ধামরাই থানার ওসি (অপারেশন) দেবাশীষ সানা সংবাদমাধ্যমকে জানান যে, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং চুরির ধরন ও আশেপাশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। আটককৃত শাহিন ও মাসুম নামের ওই দুই যুবক ভুক্তভোগী শাহিনুরের বাড়ির ঠিক পাশেই অবস্থিত একটি মুরগির খামারে কর্মরত ছিলেন। এই ঘটনায় থানায় একটি নিয়মিত ডাকাতি মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত মূল অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে বলেও জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
আশরাফুল আলম 










