ঢাকা ০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ধামরাইয়ে ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি, নোয়া মাইক্রোবাসসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্য গ্রেফতার

ঢাকার ধামরাইয়ে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশ পরিচয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হাত-পা ও চোখ বেঁধে মারধর এবং টাকা-মোবাইল লুটের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ক্লুলেস দস্যুতার ঘটনার সাথে জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ। একই সাথে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের নোয়া মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে।

​গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন,১. সাঈদ আল হাসান শাকিল (২৯), পিতা- মো: ছানোয়ার হোসেন, সাং- মুকুন্দবাড়ী, থানা- জামালপুর সদর, জেলা- জামালপুর।২. মো: সবুজ @ সাগর (৩০), পিতা- মৃত আব্দুস সাত্তার, সাং- ডিগ্রীচর, থানা- ইসলামপুর, জেলা- জামালপুর।৩. মো: জুয়েল হাওলাদার  জাহিদুল (৩৫), পিতা- ইলিয়াস হাওলাদার, সাং- নতুন শ্রীনগর, থানা- মির্জাগঞ্জ, জেলা- পটুয়াখালী (বর্তমানে গাজীপুরের গাছা থানা এলাকার বাসিন্দা)।৪. মো: মোশারফ আলী (৩৫), পিতা- রায়হান, সাং- ডিগ্রীচর আকন্দপাড়া, থানা- ইসলামপুর, জেলা- জামালপুর।

​পলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ০৬:৩০ ঘটিকায় অভিযোগকারী আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ খান (২৫) এবং তার ছোট ভাই সিয়াম খন্দকার ব্যবসায়ীক কাজে সাভার যাওয়ার উদ্দেশ্যে ধামরাইয়ের বালিয়া এলাকা থেকে রওনা হন। তারা ধামরাই থানাধীন কালামপুর বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ফুটওভার ব্রিজ সংলগ্ন ইউটার্নের পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

​রাত আনুমানিক ০৭:২০ ঘটিকার সময় একটি সাদা রঙের নোয়া গাড়ি এসে তাদের সামনে থামে। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক দুই ভাইকে গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর গাড়ির ভেতর তাদের মুখ ও চোখ কসটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে বর্বরভাবে মারধর করা হয়। ডাকাত দল তাদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নগদ ২,৬২,২১০/- (দুই লক্ষ বাষট্টি হাজার দুইশত দশ) টাকা এবং সাথে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

​পরবর্তীতে একই রাত আনুমানিক ১০:২০ ঘটিকার সময় মানিকগঞ্জ থানাধীন পুখুরিয়া সাকিনস্থ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ‘স্টোন ব্রিকস লিমিটেড’ ফ্যাক্টরির সামনে দুই ভাইকে মুখ ও চোখ বাঁধা অবস্থায় চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং- ৫৭, তারিখ: ২১/০৬/২০২৬ ইং, ধারা- ১৭০/৩৯২ পেনাল কোড), মামলা রুজুর পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মো: নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) এসএম কাওছার সুলতান এবং এসআই (নিঃ) মো: জুলফিকার আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এক দীর্ঘ অভিযান পরিচালনা করেন।

​অবশেষে গত ০৭ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ রাত ২৩:০০ ঘটিকায় গাজীপুরের জিএমপি গাছা থানা এলাকার ‘মালেকের বাড়ী’ নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে এই ৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত নোয়া মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।

​ধামরাই থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য কোনো সদস্য রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ট্যাগ:

ধামরাইয়ে ডিবি পরিচয়ে ডাকাতি, নোয়া মাইক্রোবাসসহ আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্য গ্রেফতার

আপডেট সময়: ১২:১৬:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

ঢাকার ধামরাইয়ে ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশ পরিচয়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ব্যবসায়ীকে তুলে নিয়ে হাত-পা ও চোখ বেঁধে মারধর এবং টাকা-মোবাইল লুটের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ক্লুলেস দস্যুতার ঘটনার সাথে জড়িত আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ধামরাই থানা পুলিশ। একই সাথে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি সাদা রঙের নোয়া মাইক্রোবাস উদ্ধার করা হয়েছে।

​গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন,১. সাঈদ আল হাসান শাকিল (২৯), পিতা- মো: ছানোয়ার হোসেন, সাং- মুকুন্দবাড়ী, থানা- জামালপুর সদর, জেলা- জামালপুর।২. মো: সবুজ @ সাগর (৩০), পিতা- মৃত আব্দুস সাত্তার, সাং- ডিগ্রীচর, থানা- ইসলামপুর, জেলা- জামালপুর।৩. মো: জুয়েল হাওলাদার  জাহিদুল (৩৫), পিতা- ইলিয়াস হাওলাদার, সাং- নতুন শ্রীনগর, থানা- মির্জাগঞ্জ, জেলা- পটুয়াখালী (বর্তমানে গাজীপুরের গাছা থানা এলাকার বাসিন্দা)।৪. মো: মোশারফ আলী (৩৫), পিতা- রায়হান, সাং- ডিগ্রীচর আকন্দপাড়া, থানা- ইসলামপুর, জেলা- জামালপুর।

​পলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুন ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ০৬:৩০ ঘটিকায় অভিযোগকারী আব্দুল্লাহ আল ফাহাদ খান (২৫) এবং তার ছোট ভাই সিয়াম খন্দকার ব্যবসায়ীক কাজে সাভার যাওয়ার উদ্দেশ্যে ধামরাইয়ের বালিয়া এলাকা থেকে রওনা হন। তারা ধামরাই থানাধীন কালামপুর বাসস্ট্যান্ডে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ফুটওভার ব্রিজ সংলগ্ন ইউটার্নের পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

​রাত আনুমানিক ০৭:২০ ঘটিকার সময় একটি সাদা রঙের নোয়া গাড়ি এসে তাদের সামনে থামে। গাড়িতে থাকা ব্যক্তিরা নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক দুই ভাইকে গাড়িতে তুলে নেয়। এরপর গাড়ির ভেতর তাদের মুখ ও চোখ কসটেপ দিয়ে পেঁচিয়ে বর্বরভাবে মারধর করা হয়। ডাকাত দল তাদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে নগদ ২,৬২,২১০/- (দুই লক্ষ বাষট্টি হাজার দুইশত দশ) টাকা এবং সাথে থাকা মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

​পরবর্তীতে একই রাত আনুমানিক ১০:২০ ঘটিকার সময় মানিকগঞ্জ থানাধীন পুখুরিয়া সাকিনস্থ ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে ‘স্টোন ব্রিকস লিমিটেড’ ফ্যাক্টরির সামনে দুই ভাইকে মুখ ও চোখ বাঁধা অবস্থায় চলন্ত গাড়ি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়ে ডাকাতরা পালিয়ে যায়।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর ধামরাই থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয় (মামলা নং- ৫৭, তারিখ: ২১/০৬/২০২৬ ইং, ধারা- ১৭০/৩৯২ পেনাল কোড), মামলা রুজুর পর ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জনাব মো: নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে তদন্ত শুরু হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) এসএম কাওছার সুলতান এবং এসআই (নিঃ) মো: জুলফিকার আলী সঙ্গীয় ফোর্সসহ তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় এক দীর্ঘ অভিযান পরিচালনা করেন।

​অবশেষে গত ০৭ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখ রাত ২৩:০০ ঘটিকায় গাজীপুরের জিএমপি গাছা থানা এলাকার ‘মালেকের বাড়ী’ নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে এই ৪ ডাকাতকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত নোয়া মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়।

​ধামরাই থানা পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এই চক্রের সাথে জড়িত অন্য কোনো সদস্য রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।