
দেশের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক বর্তমানে নতুন করে ভোগান্তির নাম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সাভার ও আশুলিয়া অংশে সড়কের দুই পাশে অবস্থিত পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। এতে করে অফিসগামী মানুষ, শ্রমিক, শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণির যাত্রী পড়ছেন সীমাহীন দুর্ভোগে। বিশেষ করে সাভারের হেমায়েতপুর, উলাইল, গেন্ডা, থানা বাসস্ট্যান্ড, পাকিজার মোড় ও রেডিও করোনি এলাকা এবং আশুলিয়ার নবীনগরের মোড়, বাইপাইল মোড়, শ্রীপুর জিরানি ও কবিরপুর এলাকায় অবস্থিত পেট্রোল পাম্প গুলোতে সারাদিনই জ্বালানি তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল ও গাড়ির দীর্ঘ লাইনের ফলে যানজট লেগেই আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাভার ও আশুলিয়ায় অবস্থিত বেশ কয়েকটি পেট্রোল পামগুলোতে প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এসব লাইনের কারণে মহাসড়কের একটি বড় অংশ কার্যত দখল হয়ে থাকে। এর ফলে সৃষ্ট যানজটে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের।
সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। অনেক সময় কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত যানবাহনের সারি লেগে থাকে। ফলে আশুলিয়া থেকে সাভার কিংবা ঢাকা শহরে যাতায়াত করতে গিয়ে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় নষ্ট করতে হচ্ছে।
একজন বাসচালক মনির হোসেন বলেন, আমরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারি না। পাম্পে তেল নিতে গাড়ি দাঁড় করালে পুরো রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে করে যাত্রীরা আমাদের ওপরই রাগ ঝাড়েন।
একজন গার্মেন্টস কর্মী রিনা আক্তার বলেন, প্রতিদিন কারখানায় যেতে দেরি হয়। অনেক সময় হাজিরা কাটা যায়। শুধু পেট্রোল পাম্পের লাইনের কারণে এত ভোগান্তি হওয়া সত্যিই দুঃখজনক।
এদিকে এক প্রাইভেটকার চালক শামীম আহমেদ বলেন, গাড়িতে তেল নেওয়ার জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়, আবার রাস্তার যানজটেও পড়তে হয়। ডাবল ভোগান্তি। যদি পাম্পগুলো ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা রাখত, তাহলে এই সমস্যা হতো না।
আশুলিয়ার স্থানীয় এক দোকানদার আব্দুল করিম জানান, আগে আমাদের দোকানে অনেক ক্রেতা আসত। এখন যানজটের কারণে কেউ থামতে চায় না। ব্যবসা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, পেট্রোল পাম্পগুলোর অব্যবস্থাপনা ও সঠিক তদারকির অভাবেই এই সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।
পাম্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হঠাৎ করে জ্বালানির চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় এই দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। সাভার রেডিও করোনি এলাকায় অবস্থিত সাহারা পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আওলাদ হোসেন বলেন, আমাদের কাছে পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় অনেক সময় সীমিত পরিমাণে তেল দিতে হয়। এতে করে গাড়ির সংখ্যা বাড়ে এবং লাইন দীর্ঘ হয়।
ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তারা নিয়মিত চেষ্টা করছেন যানজট নিয়ন্ত্রণে রাখতে। তবে পাম্পগুলোর ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় গাড়িগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়ছে, যা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা বারবার পাম্প কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করছি যেন তারা সড়কে গাড়ি দাঁড় করাতে না দেয়। কিন্তু বাস্তবে তা মানা হচ্ছে না।
পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিকল্পনাহীনভাবে পেট্রোল পাম্প স্থাপন এবং ব্যবস্থাপনার অভাবই এই সমস্যার মূল কারণ। তারা বলছেন, মহাসড়কের পাশে পাম্প স্থাপনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা দরকার।
ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চান। তাদের দাবি পেট্রোল পাম্পগুলোর জন্য আলাদা প্রবেশ ও নির্গমন পথ তৈরি করতে হবে এবং সড়কে গাড়ি দাঁড়ানো বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাউফুর রহমান পরাগ : 










