সাভার এলাকায় পুনরায় হকার বসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে সাভার পৌর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আরিফের বিরুদ্ধে। সম্প্রতি স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পথচারীদের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঈদের পর প্রশাসনের উদ্যোগে সাভারবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত হকারমুক্ত ফুটপাত ও সড়ক পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে সাধারণ জনগণ। কিন্তু কয়েকদিন যেতে না যেতেই পুনরায় ফুটপাত ও সড়কের আবারো হকার বসানোর তৎপরতা শুরু করেছে একটি অসাধু চক্র। ফুটপাথ ও সড়ক থেকে হকারদের উচ্ছেদের পরপর সাভার পৌর বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম ফেসবুক পোস্টে পুনরায় হকারদের বসানোর ঘোষণা দিয়ে প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ করেন। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীর আলম ফেসবুক পোস্টটি ডিলিট করে দিয়ে আন্দোলনের ঘোষণা থেকে সরে আসেন। এরপর নবগঠিত সাভার পৌর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান আরিফ প্রকাশ্যে হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের আপত্তিকর বক্তব্য দেন। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় মিজানুর রহমান আরিফ ও তার সঙ্গীরা বিভিন্নভাবে হকারদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা করে আবারো সাভারের ফুটপাথ ও সড়কে দোকান বসানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা আবারও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। ফলে আরিফের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ ও তাকে বহিষ্কারের দাবিও জোরালো হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগেই প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সাভারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত থেকে হকার উচ্ছেদ করা হয়। এতে সাধারণ মানুষ স্বস্তি ফিরে পায়। পথচারীরা নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছিলেন এবং যানজটও অনেকাংশে কমে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিক দলনেতা মিজানুর রহমান আরিফের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সহযোগিতায় এসব হকার পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। যদিও এ অভিযোগ তিনি সরাসরি অস্বীকার করেছেন, তবে এলাকাবাসীর অনেকেই বলছেন পুনরায় হকার বসানোর ব্যাপারে মিজানুর রহমান আরিফ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন , “আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। কোথাও যদি আবার অবৈধভাবে হকার বসানো হয়, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ যদি এর পেছনে জড়িত থাকে, তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।”
শ্রমিক দলনেতা মিজানুর রহমান আরিফ এ বিষয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে গিয়ে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি কখনোই অবৈধ কিছু সমর্থন করি না। কিছু ব্যক্তি আমার নাম ব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। আমি নিজেও চাই এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় থাকুক।”
তবে তার এই বক্তব্যে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারছেন না অনেকেই। এলাকাবাসীর একাংশ বলছেন, “যদি তিনি সত্যিই জড়িত না থাকেন, তাহলে তার উচিত বিষয়টি আরও জোরালোভাবে প্রতিরোধ করা এবং দোষীদের চিহ্নিত করতে সহায়তা করা।
রিপোর্টারের নাম 










