ঢাকা ১২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রেফতারের পর জামিনে বেরিয়েই ফের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসায়ীরা

সাভার ও আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে বিভিন্ন সময় মাদক কারবারি ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গ্রেফতারের পর কিছুদিন এলাকায় মাদক ব্যবসা কমলেও অভিযুক্তরা জামিনে বেরিয়ে এসে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠায় অনেক এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী সুফল মিলছে না। এতে বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, বস্তি, শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন এলাকা এবং নির্জন সড়কের আশপাশে গোপনে মাদক কেনাবেচা চলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে মাদকসহ কারবারিরা গ্রেফতার হলেও পরে তারা জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কারও বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ প্রমাণের আগে তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাভারের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কয়েকবার এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার হতে দেখেছি। কিন্তু কিছুদিন পর তারা আবার এলাকায় ফিরে আসে। এরপর আগের মতোই মাদক বিক্রি শুরু হয় বলে আমরা দেখতে পাই। এতে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আশুলিয়ার এক বাসিন্দার ভাষ্য, মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে শুধু গ্রেফতার করলেই হবে না। যারা বারবার একই অপরাধে জড়িত হচ্ছে, তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে মাদকসহ কাউকে গ্রেফতার করা হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয় এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কোনো ব্যক্তি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু অভিযান নয়, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা স্থানে মাদক বিক্রির তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুনরায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদারের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার অর্থের উৎস, সরবরাহকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের চিহ্নিত করা জরুরি। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও বাড়াতে হবে। শুধু গ্রেফতার ও কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করেন তারা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদক সহজলভ্য হলে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে তরুণ প্রজন্মের ওপর। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাভার ও আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও নিয়মিত ও সমন্বিত করা হবে এবং গ্রেফতারের পর জামিনে মুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুনরায় একই ধরনের অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত চক্রকে আইনের আওতায় এনে মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

ট্যাগ:

গ্রেফতারের পর জামিনে বেরিয়েই ফের মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসায়ীরা

আপডেট সময়: ১০:০৪:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভার ও আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে বিভিন্ন সময় মাদক কারবারি ও মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করা হলেও জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গ্রেফতারের পর কিছুদিন এলাকায় মাদক ব্যবসা কমলেও অভিযুক্তরা জামিনে বেরিয়ে এসে ফের সক্রিয় হয়ে ওঠায় অনেক এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী সুফল মিলছে না। এতে বিশেষ করে তরুণ ও কিশোরদের মধ্যে মাদক ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, বস্তি, শিল্পাঞ্চলসংলগ্ন এলাকা এবং নির্জন সড়কের আশপাশে গোপনে মাদক কেনাবেচা চলে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে মাঝেমধ্যে মাদকসহ কারবারিরা গ্রেফতার হলেও পরে তারা জামিনে বেরিয়ে এসে পুনরায় একই ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে কারও বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ প্রমাণের আগে তাকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করার কথাও বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

সাভারের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, কয়েকবার এলাকায় মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতার হতে দেখেছি। কিন্তু কিছুদিন পর তারা আবার এলাকায় ফিরে আসে। এরপর আগের মতোই মাদক বিক্রি শুরু হয় বলে আমরা দেখতে পাই। এতে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আশুলিয়ার এক বাসিন্দার ভাষ্য, মাদক ব্যবসা বন্ধ করতে শুধু গ্রেফতার করলেই হবে না। যারা বারবার একই অপরাধে জড়িত হচ্ছে, তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে মাদকসহ কাউকে গ্রেফতার করা হলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয় এবং পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়া আদালতের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। কোনো ব্যক্তি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

একজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা বলেন, মাদক নির্মূলে শুধু অভিযান নয়, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাও প্রয়োজন। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা স্থানে মাদক বিক্রির তথ্য থাকলে তা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানালে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুনরায় মাদক ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে।

সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান আরও জোরদারের পাশাপাশি মাদক ব্যবসার অর্থের উৎস, সরবরাহকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের চিহ্নিত করা জরুরি। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও বাড়াতে হবে। শুধু গ্রেফতার ও কারাগারে পাঠানোর মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করেন তারা।

অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদক সহজলভ্য হলে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ে তরুণ প্রজন্মের ওপর। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকায় সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সাভার ও আশুলিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও নিয়মিত ও সমন্বিত করা হবে এবং গ্রেফতারের পর জামিনে মুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুনরায় একই ধরনের অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত চক্রকে আইনের আওতায় এনে মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।