ঢাকা ০২:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

দেশের অন্যতম ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১টি জেলার সড়ক যোগাযোগের প্রধান ধমনী এটি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, কয়েকশ কিলোমিটার দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ এই চার লেন মহাসড়কের কোথাও নির্দিষ্ট কোনো বাস বে (Bus Bay) বা যাত্রী ওঠানামার জন্য নির্ধারিত নিরাপদ জায়গা নেই। ফলে মহাসড়কের ওপরই যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে প্রতিদিন। এতে মহাসড়কে একদিকে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, অন্যদিকে ক্রমেই বাড়ছে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাভার, নবীনগর, বাইপাইল, উলাইল, হেমায়েতপুর, সাভার বাসস্ট্যান্ড, ড্যাফোডিল এলাকা, ধামরাই এবং জয়পুরাসহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পয়েন্টে যেন কোনো নিয়ম-কানুন নেই। চালকেরা প্রতিযোগিতা করে মহাসড়কের ঠিক মাঝখানে বা মাঝরাস্তায় আড়াআড়ি করে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানামা করাচ্ছেন। কোনো কোনো স্থানে দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি স্থানীয় লেগুনা, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশা সড়ক দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে। যাত্রী তোলা এবং নামানোর এই প্রতিযোগিতায় মহাসড়কে চলা অন্যান্য দ্রুতগতির যানবাহনগুলো হঠাৎ গতি কমাতে বাধ্য হয়, যার ফলে মুহূর্তেই তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট।

নির্দিষ্ট বাস বে না থাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। গণপরিবহনে উঠতে গিয়ে প্রায়ই যাত্রীদের চলন্ত বাসের পেছনে দৌড়াতে হয় কিংবা মাঝরাস্তায় নেমে বাসে উঠতে হয়। এতে দ্রুতগামী অন্যান্য যানবাহনের চাপায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন পথচারী ও যাত্রীরা। বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও শিশুরা এই অব্যবস্থাপনার প্রধান শিকার।

হাইওয়ে পুলিশের হিসাব এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বেশিরভাগ দুর্ঘটনাই ঘটে বাসস্ট্যান্ড এলাকাগুলোতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাড়ি থামানো এবং যাত্রী ওঠানামার কারণে।

মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের সাথে কথা বললে উঠে আসে নানা ক্ষোভের কথা। এক নিয়মিত যাত্রী বলেন, নির্দিষ্ট কোনো বাস বে বা টার্মিনাল না থাকায় বাধ্য হয়ে আমাদের রাস্তার মাঝখান থেকেই বাসে উঠতে হয়। পেছন থেকে অন্য গাড়ি কখন এসে ধাক্কা দেয়—এই আতঙ্কে থাকতে হয় সবসময়। সরকারের উচিত দ্রুত প্রতিটি মোড়ে নিরাপদ বাস বে তৈরি করা।

অন্যদিকে বাস চালকদের দাবি, মহাসড়কের কোথাও যাত্রী তোলার নির্ধারিত জায়গা বা বাস বে তৈরি করা হয়নি। বাধ্য হয়েই তাদের রাস্তার ওপর গাড়ি থামাতে হয়। এক বাস চালক জানান, আমরাও চাই নিরাপদে গাড়ি থামাতে। কিন্তু পুরো মহাসড়কে কোথাও বাস থামানোর আলাদা লেন নেই। যাত্রী তো রাস্তার মোড়েই দাঁড়িয়ে থাকে, তাই বাধ্য হয়ে আমাদের ওখানেই থামতে হয়।

যাত্রীদের দাবি যত্রতত্র যাত্রীবাহী পরিবহন না থামিয়ে যাত্রীদের ওঠা নামার জন্য নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ চালু করলেই যাত্রীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।

ট্যাগ:

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, দুর্ঘটনার আশঙ্কা

আপডেট সময়: ১২:৫৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের অন্যতম ব্যস্ততম ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১টি জেলার সড়ক যোগাযোগের প্রধান ধমনী এটি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, কয়েকশ কিলোমিটার দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ এই চার লেন মহাসড়কের কোথাও নির্দিষ্ট কোনো বাস বে (Bus Bay) বা যাত্রী ওঠানামার জন্য নির্ধারিত নিরাপদ জায়গা নেই। ফলে মহাসড়কের ওপরই যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হচ্ছে প্রতিদিন। এতে মহাসড়কে একদিকে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট, অন্যদিকে ক্রমেই বাড়ছে প্রাণঘাতী সড়ক দুর্ঘটনা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সাভার, নবীনগর, বাইপাইল, উলাইল, হেমায়েতপুর, সাভার বাসস্ট্যান্ড, ড্যাফোডিল এলাকা, ধামরাই এবং জয়পুরাসহ মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি পয়েন্টে যেন কোনো নিয়ম-কানুন নেই। চালকেরা প্রতিযোগিতা করে মহাসড়কের ঠিক মাঝখানে বা মাঝরাস্তায় আড়াআড়ি করে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী উঠানামা করাচ্ছেন। কোনো কোনো স্থানে দূরপাল্লার বাসের পাশাপাশি স্থানীয় লেগুনা, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশা সড়ক দখল করে দাঁড়িয়ে থাকে। যাত্রী তোলা এবং নামানোর এই প্রতিযোগিতায় মহাসড়কে চলা অন্যান্য দ্রুতগতির যানবাহনগুলো হঠাৎ গতি কমাতে বাধ্য হয়, যার ফলে মুহূর্তেই তৈরি হয় দীর্ঘ যানজট।

নির্দিষ্ট বাস বে না থাকায় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রীরা। গণপরিবহনে উঠতে গিয়ে প্রায়ই যাত্রীদের চলন্ত বাসের পেছনে দৌড়াতে হয় কিংবা মাঝরাস্তায় নেমে বাসে উঠতে হয়। এতে দ্রুতগামী অন্যান্য যানবাহনের চাপায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন পথচারী ও যাত্রীরা। বিশেষ করে বয়স্ক, নারী ও শিশুরা এই অব্যবস্থাপনার প্রধান শিকার।

হাইওয়ে পুলিশের হিসাব এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বেশিরভাগ দুর্ঘটনাই ঘটে বাসস্ট্যান্ড এলাকাগুলোতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গাড়ি থামানো এবং যাত্রী ওঠানামার কারণে।

মহাসড়কে নিয়মিত চলাচলকারী যাত্রী ও চালকদের সাথে কথা বললে উঠে আসে নানা ক্ষোভের কথা। এক নিয়মিত যাত্রী বলেন, নির্দিষ্ট কোনো বাস বে বা টার্মিনাল না থাকায় বাধ্য হয়ে আমাদের রাস্তার মাঝখান থেকেই বাসে উঠতে হয়। পেছন থেকে অন্য গাড়ি কখন এসে ধাক্কা দেয়—এই আতঙ্কে থাকতে হয় সবসময়। সরকারের উচিত দ্রুত প্রতিটি মোড়ে নিরাপদ বাস বে তৈরি করা।

অন্যদিকে বাস চালকদের দাবি, মহাসড়কের কোথাও যাত্রী তোলার নির্ধারিত জায়গা বা বাস বে তৈরি করা হয়নি। বাধ্য হয়েই তাদের রাস্তার ওপর গাড়ি থামাতে হয়। এক বাস চালক জানান, আমরাও চাই নিরাপদে গাড়ি থামাতে। কিন্তু পুরো মহাসড়কে কোথাও বাস থামানোর আলাদা লেন নেই। যাত্রী তো রাস্তার মোড়েই দাঁড়িয়ে থাকে, তাই বাধ্য হয়ে আমাদের ওখানেই থামতে হয়।

যাত্রীদের দাবি যত্রতত্র যাত্রীবাহী পরিবহন না থামিয়ে যাত্রীদের ওঠা নামার জন্য নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ চালু করলেই যাত্রীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।