
সাভারের সুপার মেডিকেল হাসপাতাল প্রাইভেট লিমিটেডে চিকিৎসা নিতে গিয়ে রোগীর মৃত্যু, নবজাতকের মৃত্যু ও গুরুতর জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ একের পর এক উঠছে।
গত জুলাইয়ে সিজারিয়ান অপারেশনের পর মৃত নবজাতক প্রসবের অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার গত ৯ই আগস্ট চিকিৎসা নিতে আসা আরেক প্রসূতির নবজাতককে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে হাসপাতালটির চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে।ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সুপার মেডিকেল হাসপাতালে প্রসব ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেন।অপারেশনের পর নবজাতকের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। একপর্যায়ে শিশুটির অবস্থা গুরুতর হয়ে পড়লে জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে অন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়।পরিবারের অভিযোগ,পরে নবজাতককে সাভারের বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকদের তৎপরতায় শিশুটি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসে বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।
স্বজনদের অভিযোগ, সুপার মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির কারণেই নবজাতকের এমন সংকটাপন্ন পরিস্থিতি তৈরি হয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।এর আগে গত জুলাই মাসেও সুপার মেডিকেল হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের পর এক নবজাতকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও অবহেলার অভিযোগ তোলেন স্বজনরা। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালটিতে উত্তেজনাও ছড়িয়ে পড়ে।একই প্রতিষ্ঠানে একের পর এক এমন অভিযোগ ওঠায় হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা ও রোগী ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্রসূতি ও নবজাতকের চিকিৎসায় হাসপাতালটিতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা, জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।তবে কোনো রোগীর মৃত্যু বা জটিলতার ঘটনাকে সরাসরি ‘ভুল চিকিৎসা’ হিসেবে চিহ্নিত করার আগে সংশ্লিষ্ট রোগীর চিকিৎসা নথি,প্রেসক্রিপশন,অপারেশন নোট,পরীক্ষার রিপোর্ট এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করে বিশেষজ্ঞদের মতামত নেওয়া প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্তের ফলও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে যদি রোগী বা নবজাতক আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে, তাহলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চিকিৎসাসেবা নিয়ে আস্থার সংকট তৈরি হয়। তাদের দাবি,বিষয়টি শুধু একটি পরিবারের অভিযোগ হিসেবে না দেখে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক।অভিযোগের বিষয়ে সুপার মেডিকেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্টাফ রিপোর্টার 










