
যে বয়সে সমবয়সীরা স্কুলে যায়, খেলাধুলায় মেতে থাকে, সেই বয়সেই হাসপাতালের বিছানায় মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে ৮ বছরের শিশু শায়ান মাহমুদ। মুখে কথা বলতে না পারলেও চোখে-মুখে ফুটে ওঠে বাঁচার আকুতি। চিকিৎসকরা আশার কথা শুনিয়েছেন, কিন্তু ৫ লাখ টাকার অভাবে তার চিকিৎসা কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, মানিকগঞ্জের রাজিবপুর বাজার এলাকার দানিস্ত নগর গ্রামের বাসিন্দা গার্মেন্টস কর্মী ফয়সাল ও মাহমুদা আক্তার দম্পতির একমাত্র সন্তান শায়ান। কয়েক মাস আগে দাদির সঙ্গে খেলতে গিয়ে বাসার ছাদ থেকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পায় সে। পরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মাথার ভাঙা হাড় অপসারণ করা হলেও মস্তিষ্কে পানি জমে জটিলতা দেখা দেয়। বর্তমানে নাকের নল দিয়ে অল্প পরিমাণ খাবার গ্রহণ করে বেঁচে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে শিশুটি।
উন্নত চিকিৎসার জন্য শায়ানকে নিয়ে পরিবারটি সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশের একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছে। এ পর্যন্ত সন্তানের চিকিৎসায় প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় করে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন মা-বাবা।
শায়ানের মা মাহমুদা আক্তার বলেন, আমার সন্তানের মাথার হাড় ভেঙে গিয়েছিল। অপারেশন করে হাড় বের করা হয়েছে, কিন্তু মাথায় পানি জমে গেছে। তীব্র যন্ত্রণায় আমার সন্তান চোখের সামনে ধুঁকে ধুঁকে শেষ হয়ে যাচ্ছে। টাকার অভাবে চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারছি না।
হাসপাতালের বকেয়া পরিশোধ করতে না পারায় একসময় সন্তানের খাবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
শিশুটির দাদি বলেন, একটি ছোট্ট দুর্ঘটনায় আমার নাতির জীবন আজ সংকটে। সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের কাছে হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, সবাই এগিয়ে আসুন। আমার নাতিটাকে বাঁচাতে সাহায্য করুন।
পরিবারের দাবি, শায়ানের চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে এখন জরুরি ভিত্তিতে আরও প্রায় ৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা। তাদের বিশ্বাস, সবার সম্মিলিত সহায়তা পেলে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে ছোট্ট শায়ান।
স্টাফ রিপোর্টার 










