ঢাকা ০৫:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চার শতকের ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা, উল্টো রথটানে শেষ হলো ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা

  • আশরাফুল আলম
  • আপডেট সময়: ০৯:২৪:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • 123

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ধামরাইয়ের চারশত বছরের পুরোনো শ্রী শ্রী যশোমাধব দেবের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসবের আনুষ্ঠানিক যবনিকা ঘটলো। অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভক্তি আর লাখো জনতার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে শেষ পর্বের ‘উল্টো রথটান’। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রথটানের মধ্য দিয়েই শ্রী শ্রী যশোমাধব দেব দীর্ঘ সাত দিন ‘মাসির বাড়িতে’ অবস্থান শেষে পুনরায় নিজ ধামে ফিরে এলেন।

​শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকা জেলার ধামরাই পৌরসভার যাত্রাবাড়ী এলাকায় জমকালো আয়োজনে এবং নিখুঁত নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে উল্টো রথটানের মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

উল্টো রথটান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শ্রী শ্রী যশোমাধব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাস (অব:)-এর সভাপতিত্বে এবং মন্দির কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার।

​বাংলাদেশের চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন,​”এই দেশ আমাদের সবার। বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলমানসহ সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে এ এলাকার সকল সমস্যা ও উন্নয়নের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আল মামুন।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহিম শাহরিয়ার, ধামরাই থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ—ইবাদুল হক জাহিদ, খুররম চৌধুরী টুটুল এবং ইশতিয়াক আহম্মেদ ফারুক।

নিভে যায় ধর্মের ভেদাভেদ,লাখো মানুষের মিলনমেলা,​ধামরাইয়ের এই রথযাত্রা নিছক কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা রূপ নিয়েছিল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের এক মহামিলনমেলায়। উল্টো রথটান দেখতে ঢাকা ও এর চারপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজির হন লাখো ভক্ত ও দর্শনার্থী। হিন্দু-মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষের আনন্দঘন অংশগ্রহণে পুরো ধামরাই পৌরশহর অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণে পরিণত হয়।

ঐতিহাসিক এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ধামরাই পৌরশহর জুড়ে নেওয়া হয়েছিল অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা:​আর্চওয়ে গেট মেলার প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছিল আধুনিক আর্চওয়ে গেট ও মেটাল ডিটেক্টর।​নিরাপত্তা বাহিনী,অনুষ্ঠানস্থল ও আশেপাশের এলাকায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি কাজ করেছে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ।বিপুল সদস্য মোতায়েন,সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৩০০ সদস্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা তদারকিতে নিয়োজিত ছিলেন।

ধর্মীয় আচার অনুযায়ী উল্টো রথটানের মধ্য দিয়ে শ্রী শ্রী যশোমাধব দেব নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে রথযাত্রার মূল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটেছে। তবে উৎসবের আনন্দ এখনই শেষ হচ্ছে না। রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী লোকজ মেলা আগামী মাসব্যাপী জুড়েই উৎসবমুখর পরিবেশে অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ:

চার শতকের ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা, উল্টো রথটানে শেষ হলো ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা

আপডেট সময়: ০৯:২৪:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক ধামরাইয়ের চারশত বছরের পুরোনো শ্রী শ্রী যশোমাধব দেবের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা উৎসবের আনুষ্ঠানিক যবনিকা ঘটলো। অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, ভক্তি আর লাখো জনতার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে শেষ পর্বের ‘উল্টো রথটান’। সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রথটানের মধ্য দিয়েই শ্রী শ্রী যশোমাধব দেব দীর্ঘ সাত দিন ‘মাসির বাড়িতে’ অবস্থান শেষে পুনরায় নিজ ধামে ফিরে এলেন।

​শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে ঢাকা জেলার ধামরাই পৌরসভার যাত্রাবাড়ী এলাকায় জমকালো আয়োজনে এবং নিখুঁত নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে উল্টো রথটানের মূল অনুষ্ঠানটি আয়োজিত হয়।

উল্টো রথটান উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় শ্রী শ্রী যশোমাধব মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল জীবন কানাই দাস (অব:)-এর সভাপতিত্বে এবং মন্দির কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নন্দ গোপাল সেনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার।

​বাংলাদেশের চিরায়ত অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন,​”এই দেশ আমাদের সবার। বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলমানসহ সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার রয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাধ্যমে এ এলাকার সকল সমস্যা ও উন্নয়নের বার্তা প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. তমিজ উদ্দিন, ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক ইয়াসিন ফেরদৌস মুরাদ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আল মামুন।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামছুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহিম শাহরিয়ার, ধামরাই থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ—ইবাদুল হক জাহিদ, খুররম চৌধুরী টুটুল এবং ইশতিয়াক আহম্মেদ ফারুক।

নিভে যায় ধর্মের ভেদাভেদ,লাখো মানুষের মিলনমেলা,​ধামরাইয়ের এই রথযাত্রা নিছক কোনো ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা রূপ নিয়েছিল ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের এক মহামিলনমেলায়। উল্টো রথটান দেখতে ঢাকা ও এর চারপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজির হন লাখো ভক্ত ও দর্শনার্থী। হিন্দু-মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষের আনন্দঘন অংশগ্রহণে পুরো ধামরাই পৌরশহর অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণে পরিণত হয়।

ঐতিহাসিক এই উৎসবকে নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে ধামরাই পৌরশহর জুড়ে নেওয়া হয়েছিল অভূতপূর্ব ও নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা:​আর্চওয়ে গেট মেলার প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছিল আধুনিক আর্চওয়ে গেট ও মেটাল ডিটেক্টর।​নিরাপত্তা বাহিনী,অনুষ্ঠানস্থল ও আশেপাশের এলাকায় পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি কাজ করেছে সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ।বিপুল সদস্য মোতায়েন,সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় ৩০০ সদস্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা তদারকিতে নিয়োজিত ছিলেন।

ধর্মীয় আচার অনুযায়ী উল্টো রথটানের মধ্য দিয়ে শ্রী শ্রী যশোমাধব দেব নিজ বাড়িতে ফিরে যাওয়ার মাধ্যমে রথযাত্রার মূল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার সমাপ্তি ঘটেছে। তবে উৎসবের আনন্দ এখনই শেষ হচ্ছে না। রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী লোকজ মেলা আগামী মাসব্যাপী জুড়েই উৎসবমুখর পরিবেশে অব্যাহত থাকবে।