
আশুলিয়ায় এক গার্মেন্টসকর্মীর রহস্যজনক মৃত্যুর প্রায় চার মাস পর তার স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, আমেনা বেগমকে হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হয়। পরে পরিবারের সদস্যদের না জানিয়েই মরদেহ দাফন করা হয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালতে নিহতের বড় বোন মোসা. রুবিনা বেগম মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় একমাত্র আসামি করা হয়েছে আমেনার স্বামী মো. অলিউল্লাহ ওরফে শহিদকে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মীর আলমগীর হোসেন জানান, আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে এ ঘটনায় এর আগে কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সালে আমেনা বেগমের প্রথম বিয়ে হয়। এক বছর পর লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে তার প্রথম স্বামী মারা যান। তখন তাদের দুই মাস বয়সী একটি সন্তান ছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর জীবিকার তাগিদে ২০২৪ সালের এপ্রিলে আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অবস্থিত আমার স্পিনিং মিলস লিমিটেডে অপারেটর হিসেবে চাকরি নেন তিনি। একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অলিউল্লাহ ওরফে শহিদের সঙ্গে পরিচয়ের পর ২০২৪ সালের শেষ দিকে তাদের বিয়ে হয়।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই শহিদ আমেনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। এমনকি তাকে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতেও বাধা দেওয়া হতো। নির্যাতনের বিষয়টি আমেনা একাধিকবার পরিবারের সদস্যদের জানিয়েছিলেন। তবে গত মার্চ মাস থেকে তার সঙ্গে পরিবারের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। মে মাসের শেষ দিকে আমেনার বোন নুরজাহান বেগম তাদের আগের বাসায় গিয়ে জানতে পারেন, তারা অন্যত্র বাসা নিয়েছেন। পরে নতুন ঠিকানার সন্ধান পেয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন, গত ২৬ মার্চ আমেনা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। ঘটনার পর থেকেই শহিদ পলাতক রয়েছেন।
মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ নিহতের পরিবারের সদস্যদের সন্ধান না পেয়ে শিমুলতলার দরগাপাড়া কবরস্থানে মরদেহ দাফন করে।
নিহতের পরিবারের দাবি, আমেনাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার মরদেহ ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে। এরপর দ্রুত মরদেহ দাফনের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য গোপনের চেষ্টা করা হয়।
এ বিষয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ উদ্ধারের সময় নিহতের পরিবারের কোনো সদস্যের সন্ধান পাওয়া যায়নি। সে কারণে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয় এবং মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
আদালতের নির্দেশে বিষয়টি নতুন করে তদন্তের আওতায় আসায় চার মাস আগের এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের বিষয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
রাউফুর রহমান পরাগ : 











