ঢাকা ১১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রায় তিনদিন ধরে মুরগি শূন্য সাভার পৌর এলাকা, তীব্র ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

 সাভারে ‘কুলি বিটের’ টাকা দিতে নারাজ মুরগি ব্যবসায়ীরা, চলছে ধর্মঘট। সম্প্রতি সাভার পৌরসভায় গাড়ি থেকে মুরগি লোড-আনলোডের জন্য ‘কুলি বিট’ বাবদ মুরগি প্রতি এক টাকা করে নির্ধারণ করে ইজারা দেয় সাভার পৌরসভা। কিন্তু এই টাকা ইজারাদারদের দিতে নারাজ মুরগি ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, তারা কুলি ব্যবহার করেন না, নিজেদের মুরগি নিজেরই লোড-আনলোড করেন। ফলে মুরগির প্রতি এক টাকাকে চাঁদা হিসেবে উল্লেখ করে তারা মুরগির সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন। অভিযোগ দিয়েছেন থানায়। এর প্রভাব পড়েছে সাভারের বাজারে। ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতারা।
এদিকে মুরগি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের মধ্যেই চলমান সমস্যা নিরসনে শনিবার সকালে সাভার মডেল থানা চত্বরের গোল ঘরে পৌরসভার ইজারাদার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে একজন কর্মকর্তা দু’পক্ষের সাথে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করেন। পরে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ রাতে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে সময় নিয়ে আলোচনা শেষ করেন।
এবিষয়ে সাভার-আশুলিয়া মুরগি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, ‘মুরগির গাড়িপ্রতি ৮০ টাকা করে পার্কিং চার্জ নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। এক একটি গাড়িতে এক হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০টাও পর্যন্ত মুরগি থাকে। সে হিসেবে গাড়ি প্রতি এক হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। প্রয়োজনে আমরা ৮০ টাকার জায়গায় ১৫০ টাকা বা ২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে পারি গাড়ি প্রতি। কিন্তু মুরগির প্রতি এক টাকা করে এতো টাকা দেয়া তো আমাদের পক্ষে সম্ভব না। এটা পুরোপুরি চাঁদাবাজি। এর আইনি ভিত্তি নেই।’
যতক্ষণ পর্যন্ত সমাধান না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে বলেও জানা এই ব্যবসায়ী নেতা।
অন্যদিকে ‘কুলি বিট’ ইজারাদার আলমগীর হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পৌরসভার থেকে ইজারা নিয়েছি। পৌরসভা থেকে আমাদেরকে মুরগিপ্রতি এক টাকা করে নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই হিসাবে আমরা টাকা নিচ্ছি। এটা তো চাঁদা না। ব্যবসায়ীরা গাড়িপ্রতি যে ৮০ টাকার কথা বলছে এটা সঠিক নয়। ২০২০ সালে পৌরসভায় ত্রিপক্ষীয় এক সমঝোতার মাধ্যমে মুরগির প্রত্যেক গাড়ি থেকে ৩৫০ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছিল। কখনো ৮০ টাকা ছিল না। বিষয়টি আমি ইউএনওকে জানিয়েছি। তিনি বসে সমাধান করতে বলেছেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা আমার কাছে না এসে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছেন।’
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মুরগির ব্যবসায়ীরা আমার কাছে এসেছিলেন। আমি দুইপক্ষকে বসে এটা সমাধান করতে বলেছি। এটি তো এমন বিষয় না যে সমাধান হবে না। প্রয়োজনে ইজারাদারের দর কমিয়ে দেওয়া সুযোগ আছে।
ট্যাগ:

প্রায় তিনদিন ধরে মুরগি শূন্য সাভার পৌর এলাকা, তীব্র ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ

আপডেট সময়: ০৭:৫৭:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
 সাভারে ‘কুলি বিটের’ টাকা দিতে নারাজ মুরগি ব্যবসায়ীরা, চলছে ধর্মঘট। সম্প্রতি সাভার পৌরসভায় গাড়ি থেকে মুরগি লোড-আনলোডের জন্য ‘কুলি বিট’ বাবদ মুরগি প্রতি এক টাকা করে নির্ধারণ করে ইজারা দেয় সাভার পৌরসভা। কিন্তু এই টাকা ইজারাদারদের দিতে নারাজ মুরগি ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, তারা কুলি ব্যবহার করেন না, নিজেদের মুরগি নিজেরই লোড-আনলোড করেন। ফলে মুরগির প্রতি এক টাকাকে চাঁদা হিসেবে উল্লেখ করে তারা মুরগির সরবরাহ বন্ধ রেখেছেন। অভিযোগ দিয়েছেন থানায়। এর প্রভাব পড়েছে সাভারের বাজারে। ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ ক্রেতা ও খুচরা বিক্রেতারা।
এদিকে মুরগি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের মধ্যেই চলমান সমস্যা নিরসনে শনিবার সকালে সাভার মডেল থানা চত্বরের গোল ঘরে পৌরসভার ইজারাদার ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে দীর্ঘ আলোচনা হয়। এতে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার প্রতিনিধি হিসেবে একজন কর্মকর্তা দু’পক্ষের সাথে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করেন। পরে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ রাতে তাদের সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে সময় নিয়ে আলোচনা শেষ করেন।
এবিষয়ে সাভার-আশুলিয়া মুরগি ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ইদ্রিস আলী বলেন, ‘মুরগির গাড়িপ্রতি ৮০ টাকা করে পার্কিং চার্জ নিয়মিত পরিশোধ করা হচ্ছে। এক একটি গাড়িতে এক হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০টাও পর্যন্ত মুরগি থাকে। সে হিসেবে গাড়ি প্রতি এক হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়। প্রয়োজনে আমরা ৮০ টাকার জায়গায় ১৫০ টাকা বা ২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে পারি গাড়ি প্রতি। কিন্তু মুরগির প্রতি এক টাকা করে এতো টাকা দেয়া তো আমাদের পক্ষে সম্ভব না। এটা পুরোপুরি চাঁদাবাজি। এর আইনি ভিত্তি নেই।’
যতক্ষণ পর্যন্ত সমাধান না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত এই ধর্মঘট চলবে বলেও জানা এই ব্যবসায়ী নেতা।
অন্যদিকে ‘কুলি বিট’ ইজারাদার আলমগীর হোসেন মোল্লা বলেন, ‘আমি সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে পৌরসভার থেকে ইজারা নিয়েছি। পৌরসভা থেকে আমাদেরকে মুরগিপ্রতি এক টাকা করে নির্ধারণ করে দিয়েছে। সেই হিসাবে আমরা টাকা নিচ্ছি। এটা তো চাঁদা না। ব্যবসায়ীরা গাড়িপ্রতি যে ৮০ টাকার কথা বলছে এটা সঠিক নয়। ২০২০ সালে পৌরসভায় ত্রিপক্ষীয় এক সমঝোতার মাধ্যমে মুরগির প্রত্যেক গাড়ি থেকে ৩৫০ টাকা করে নির্ধারণ করা হয়েছিল। কখনো ৮০ টাকা ছিল না। বিষয়টি আমি ইউএনওকে জানিয়েছি। তিনি বসে সমাধান করতে বলেছেন। কিন্তু ব্যবসায়ীরা আমার কাছে না এসে থানায় গিয়ে অভিযোগ করেছেন।’
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মুরগির ব্যবসায়ীরা আমার কাছে এসেছিলেন। আমি দুইপক্ষকে বসে এটা সমাধান করতে বলেছি। এটি তো এমন বিষয় না যে সমাধান হবে না। প্রয়োজনে ইজারাদারের দর কমিয়ে দেওয়া সুযোগ আছে।