
আগামীকাল থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র রমজান মাস। বিশ্বের মুসলমানদের জন্য এই মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও তাকওয়া অর্জনের এক অনন্য সুযোগ। মহান আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে ঘোষণা করেছেন, রোজা মানুষের মাঝে পরহেজগারি সৃষ্টি করে। তাই রমজান শুধু উপবাসের মাস নয়, এটি আত্মসংযম ও আত্মশুদ্ধির এক প্রশিক্ষণকাল।
ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো রোজা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানে রোজা রাখে, তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হয়।” এই মাসেই নাজিল হয়েছে পবিত্র কোরআন, যা মানবজাতির জন্য হেদায়েতের দিশারি। তাই রমজানকে কোরআনের মাসও বলা হয়।
রমজানে রোজা রাখার মাধ্যমে মানুষ ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট অনুভব করে দরিদ্রদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়। সমাজে দান-সদকা, যাকাত ও ফিতরা প্রদানের প্রবণতা বেড়ে যায়। ফলে সামাজিক বৈষম্য কমাতে রমজান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারাবির নামাজ, তাহাজ্জুদ ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে মুমিনরা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করেন।
ধর্মীয় চিন্তাবিদরা বলেন, রমজান মানুষকে শুধু ধর্মীয় দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করে না, বরং নৈতিকতা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতেও সহায়তা করে। আত্মনিয়ন্ত্রণের শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
সব মিলিয়ে, রমজান মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস। পবিত্র এই মাসের শিক্ষা যদি ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে একটি শান্তিপূর্ণ, সহমর্মী ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন সম্ভব।
এন. এস. সুজন 












