ঢাকা ০৩:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভার-আশুলিয়ায় অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল, দুর্ঘটনা ও যানজটে বিপর্যস্ত জনজীবন

সাভার-আশুলিয়ার মহাসড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলি—সর্বত্রই বেড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল। নিয়ম-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, হঠাৎ ইউটার্ন, বিপরীতমুখী চলাচল ও অতিরিক্ত গতির কারণে প্রতিনিয়তই তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। একই সঙ্গে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অটোরিকশার জটের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীরা।

 

সাভার-আশুলিয়া মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দেখা যায়, প্রধান সড়কের পাশে অটোরিকশাগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে। অনেক চালক আবার নির্ধারিত স্থান ছাড়াই মাঝসড়কে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন। পেছন থেকে আসা যানবাহনকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় মুহূর্তেই তৈরি হচ্ছে যানজট। ব্যস্ত সময়ে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।

 

স্থানীয় পথচারীদের অভিযোগ, অটোরিকশার চালকদের একটি অংশ ট্রাফিক আইন ও সড়ক ব্যবহারের নিয়ম মানছেন না। বিশেষ করে মোড়, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে হঠাৎ গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া কিংবা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়ার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

সাভারের এক পথচারী বলেন, রাস্তা পার হওয়ার সময় অটোরিকশাগুলো কোন দিক থেকে আসছে বোঝা যায় না। অনেক সময় খুব দ্রুতগতিতে এসে সামনে ব্রেক করে। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

আশুলিয়ার আরেক বাসিন্দা বলেন, অলিগলিতে অটোরিকশার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। ছোট রাস্তা হওয়ায় দুটি গাড়ি পাশাপাশি চললেই পথচারীদের হাঁটার জায়গা থাকে না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলের সময় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

শুধু মহাসড়ক নয়, স্থানীয় বাজার, আবাসিক এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলোতেও অটোরিকশার আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় ফুটপাত বা রাস্তার একাংশ দখল করে অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় পথচারীদের মূল সড়ক দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে। এতে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সঙ্গে পথচারীদের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

 

একজন চাকরিজীবী জানান, অফিসে যাওয়ার সময় প্রতিদিনই যানজটে পড়তে হয়। অটোরিকশাগুলো যেখানে-সেখানে থামায় পুরো রাস্তার গতি কমে যায়। কয়েক মিনিটের রাস্তা যেতে কখনো কখনো অনেক বেশি সময় লাগে।

 

স্থানীয়দের দাবি, অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা নয়; বরং এর জন্য কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণ, চালকদের প্রশিক্ষণ, বৈধ কাগজপত্র যাচাই এবং মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শহর বা শিল্পাঞ্চলে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে অটোরিকশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এসব যানবাহন চলাচল করলে সড়কের সক্ষমতা কমে যায় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

পথচারীদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পর আবার আগের পরিস্থিতি ফিরে আসে। ফলে তারা স্থায়ী ও সমন্বিত উদ্যোগ চান। একই সঙ্গে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইন না মানলে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

 

সাভার-আশুলিয়ায় শিল্পকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে প্রতিদিনই সড়কে মানুষের চাপ বাড়ছে। এর সঙ্গে যদি নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা চলাচল অব্যাহত থাকে, তাহলে যানজট ও দুর্ঘটনার সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

 

এ অবস্থায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড ও রুট ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাভার-আশুলিয়ার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দুর্ঘটনা ও যানজটের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

ট্যাগ:

সাভার-আশুলিয়ায় অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল, দুর্ঘটনা ও যানজটে বিপর্যস্ত জনজীবন

আপডেট সময়: ১২:৫৯:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬

সাভার-আশুলিয়ার মহাসড়ক থেকে শুরু করে বিভিন্ন অলিগলি—সর্বত্রই বেড়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার বেপরোয়া চলাচল। নিয়ম-শৃঙ্খলার তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা, হঠাৎ ইউটার্ন, বিপরীতমুখী চলাচল ও অতিরিক্ত গতির কারণে প্রতিনিয়তই তৈরি হচ্ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। একই সঙ্গে সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অটোরিকশার জটের কারণে সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ যাত্রীরা।

 

সাভার-আশুলিয়া মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে দেখা যায়, প্রধান সড়কের পাশে অটোরিকশাগুলো সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলছে। অনেক চালক আবার নির্ধারিত স্থান ছাড়াই মাঝসড়কে গাড়ি থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করাচ্ছেন। পেছন থেকে আসা যানবাহনকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় মুহূর্তেই তৈরি হচ্ছে যানজট। ব্যস্ত সময়ে এই সমস্যা আরও প্রকট আকার ধারণ করে।

 

স্থানীয় পথচারীদের অভিযোগ, অটোরিকশার চালকদের একটি অংশ ট্রাফিক আইন ও সড়ক ব্যবহারের নিয়ম মানছেন না। বিশেষ করে মোড়, বাজার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে হঠাৎ গাড়ি ঘুরিয়ে দেওয়া কিংবা রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়ার কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে।

সাভারের এক পথচারী বলেন, রাস্তা পার হওয়ার সময় অটোরিকশাগুলো কোন দিক থেকে আসছে বোঝা যায় না। অনেক সময় খুব দ্রুতগতিতে এসে সামনে ব্রেক করে। একটু অসতর্ক হলেই বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

 

আশুলিয়ার আরেক বাসিন্দা বলেন, অলিগলিতে অটোরিকশার সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। ছোট রাস্তা হওয়ায় দুটি গাড়ি পাশাপাশি চললেই পথচারীদের হাঁটার জায়গা থাকে না। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের চলাচলের সময় পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

 

শুধু মহাসড়ক নয়, স্থানীয় বাজার, আবাসিক এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলোতেও অটোরিকশার আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। অনেক সময় ফুটপাত বা রাস্তার একাংশ দখল করে অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকায় পথচারীদের মূল সড়ক দিয়েই হাঁটতে হচ্ছে। এতে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক, প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেলের সঙ্গে পথচারীদের সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

 

একজন চাকরিজীবী জানান, অফিসে যাওয়ার সময় প্রতিদিনই যানজটে পড়তে হয়। অটোরিকশাগুলো যেখানে-সেখানে থামায় পুরো রাস্তার গতি কমে যায়। কয়েক মিনিটের রাস্তা যেতে কখনো কখনো অনেক বেশি সময় লাগে।

 

স্থানীয়দের দাবি, অটোরিকশা চলাচল বন্ধ করা নয়; বরং এর জন্য কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। নির্দিষ্ট রুট ও স্ট্যান্ড নির্ধারণ, চালকদের প্রশিক্ষণ, বৈধ কাগজপত্র যাচাই এবং মহাসড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শহর বা শিল্পাঞ্চলে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে অটোরিকশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীনভাবে এসব যানবাহন চলাচল করলে সড়কের সক্ষমতা কমে যায় এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে। তাই গণপরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

পথচারীদের অভিযোগ, মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছুদিন পর আবার আগের পরিস্থিতি ফিরে আসে। ফলে তারা স্থায়ী ও সমন্বিত উদ্যোগ চান। একই সঙ্গে চালকদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ট্রাফিক আইন না মানলে জরিমানাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

 

সাভার-আশুলিয়ায় শিল্পকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ফলে প্রতিদিনই সড়কে মানুষের চাপ বাড়ছে। এর সঙ্গে যদি নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা চলাচল অব্যাহত থাকে, তাহলে যানজট ও দুর্ঘটনার সমস্যা আরও তীব্র হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

 

এ অবস্থায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি, নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড ও রুট ব্যবস্থাপনা, চালকদের প্রশিক্ষণ এবং ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাভার-আশুলিয়ার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে এবং দুর্ঘটনা ও যানজটের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।