
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গতকাল রাত থেকেই সাভার ও আশুলিয়া এলাকা ছাড়তে শুরু করেছেন হাজারো শ্রমজীবী মানুষ। বিশেষ করে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিক, দিনমজুর এবং বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষজন পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছেন। এতে বাসস্ট্যান্ড, মহাসড়ক এবং বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারগুলোতে দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।
গতকাল রাত থেকেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কসহ সাভারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যাত্রীদের ভিড় বাড়তে থাকে। অনেকেই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে বাসে উঠতে বাধ্য হচ্ছেন। কেউ কেউ আবার ভোগান্তি এড়াতে ট্রাক, পিকআপ কিংবা লেগুনায় করে ঝুঁকি নিয়েই বাড়ির পথে যাত্রা করছেন।
আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক রফিকুল ইসলাম বলেন, “কারখানায় ছুটি পাওয়ার পরপরই বাসায় ফিরছি। পরিবারের সঙ্গে ঈদ করার জন্য সারা বছর অপেক্ষা করি। কিন্তু ভাড়া বেশি আর গাড়ি কম থাকায় অনেক কষ্ট করে যেতে হচ্ছে।”
একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানান নারী শ্রমিক সালমা আক্তার। তিনি বলেন, “গতকাল রাত ১২টা থেকে দাঁড়িয়ে আছি। এখনো ঠিকমতো কোনো বাস পাইনি। বাচ্চাদের নিয়ে খুব কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু তবুও বাড়ি যেতেই হবে।”
সাভারের নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে দেখা যায়, যাত্রীদের চাপ সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবহন কর্তৃপক্ষ। বাসের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় অনেকেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে টিকিট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এ বিষয়ে এক যাত্রী মো. জামাল হোসেন বলেন, “ভাড়া দ্বিগুণ চাচ্ছে। না দিলে বাসে উঠতেই দিচ্ছে না। আমরা সাধারণ মানুষ, এত ভাড়া দেওয়া খুব কষ্টকর।”
তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যাত্রীদের চাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এক বাস চালক জানান, “গতকাল রাত থেকেই যাত্রীদের চাপ অনেক বেশি। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছে দিতে, কিন্তু গাড়ির সংখ্যা সীমিত।”
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছে। পুলিশ সদস্যরা জানান, যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে তারা বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করছেন এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়েও নজরদারি করছেন।
সাভার ও আশুলিয়ার এই শ্রমজীবী মানুষদের বেশিরভাগই সারা বছর শহরে কষ্ট করে কাজ করেন এবং ঈদের সময়টুকুই তাদের পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সুযোগ মেলে। তাই সব ভোগান্তি সত্ত্বেও তারা বাড়ি ফেরার এই যাত্রাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, ঈদযাত্রা শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাভার ও আশুলিয়া এলাকায় শ্রমজীবী মানুষের ঢল নেমেছে। যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও পরিবহন সংখ্যা বাড়ানো গেলে যাত্রীদের এই ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন।
রাউফুর রহমান পরাগ : 











