ঢাকা ০৬:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভার ও আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাসের তীব্র সংকট, শিল্প ও জনজীবনে চরম বিপর্যয়

ঢাকার অদূরে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও আবাসিক এলাকা সাভার ও আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাসের তীব্র সংকট দীর্ঘদিন ধরে জনজীবন ও শিল্পখাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি, রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। এই সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
সাভার-আশুলিয়ার বহু আবাসিক এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ একেবারেই থাকে না বলে অভিযোগ রয়েছে। রান্না করতে না পেরে অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎচালিত চুলা বা বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছে, যা অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় গ্যাস সংকটের প্রভাব আরও ভয়াবহ। গার্মেন্টস, ডাইং, ওয়াশিং ও অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে অর্ডার সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শ্রমিকদের কাজের সময় ও আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ছোট খাবার দোকানগুলোর ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান দিনের বড় একটি সময় বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ কেউ এলপিজির ওপর নির্ভর করলেও এর উচ্চমূল্যের কারণে লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অপর্যাপ্ত সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত নজরদারির অভাব এই সংকটের অন্যতম কারণ। কোথাও কোথাও অবৈধ সংযোগ ও লাইন লিকেজ থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বৈধ গ্রাহকরাই বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, লাইন সংস্কার ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাভার ও আশুলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না করা গেলে দেশের শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও সংকটের মুখে পড়বে।
ট্যাগ:

সাভার ও আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাসের তীব্র সংকট, শিল্প ও জনজীবনে চরম বিপর্যয়

আপডেট সময়: ০৬:১৪:১২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
ঢাকার অদূরে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও আবাসিক এলাকা সাভার ও আশুলিয়ায় তিতাস গ্যাসের তীব্র সংকট দীর্ঘদিন ধরে জনজীবন ও শিল্পখাতে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় শিল্পকারখানা, বাসাবাড়ি, রেস্তোরাঁ ও ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। এই সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
সাভার-আশুলিয়ার বহু আবাসিক এলাকায় দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের চাপ একেবারেই থাকে না বলে অভিযোগ রয়েছে। রান্না করতে না পেরে অনেক পরিবার বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎচালিত চুলা বা বাইরে থেকে খাবার কিনতে বাধ্য হচ্ছে, যা অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য এই পরিস্থিতি আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় গ্যাস সংকটের প্রভাব আরও ভয়াবহ। গার্মেন্টস, ডাইং, ওয়াশিং ও অন্যান্য কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অনেক কারখানায় নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে অর্ডার সময়মতো সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি শ্রমিকদের কাজের সময় ও আয়ের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
হোটেল-রেস্তোরাঁ ও ছোট খাবার দোকানগুলোর ব্যবসাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাস না থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠান দিনের বড় একটি সময় বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ কেউ এলপিজির ওপর নির্ভর করলেও এর উচ্চমূল্যের কারণে লাভের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। ফলে কর্মসংস্থান ও ব্যবসায়িক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অপর্যাপ্ত সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত নজরদারির অভাব এই সংকটের অন্যতম কারণ। কোথাও কোথাও অবৈধ সংযোগ ও লাইন লিকেজ থাকলেও সেগুলো যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বৈধ গ্রাহকরাই বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এলাকাবাসী দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন। গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, লাইন সংস্কার ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাভার ও আশুলিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না করা গেলে দেশের শিল্প উৎপাদন ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও সংকটের মুখে পড়বে।