
আশুলিয়ায় শ্বশুরবাড়ির শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সাহেরা আক্তার কাজল (২০) নামে এক গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসায় বাধা দেওয়ার অভিযোগে নিহতের স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়ি ও এক স্থানীয় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার নাশিংগল গ্রামের মোঃ কবিরের মেয়ে সাহেরা আক্তার কাজল পরিবারের অমতে আশুলিয়ার কুটুরিয়া এলাকার বাসিন্দা মোঃ অনিক মিয়ার (১৯) সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর থেকেই যৌতুক ও আসবাবপত্রের দাবিতে অনিক ও তার পরিবারের লোকজন কাজলের ওপর বিভিন্ন সময় নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।
অভিযোগে জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখ সকাল ১০:৩০ মিনিটের দিকে নির্যাতনের মাত্রা সহ্য করতে না পেরে স্বামীর বাড়িতে বিষপান করেন ওই গৃহবধূ। খবর পেয়ে স্বজনরা আশুলিয়ার কুটুরিয়া বাজারের ‘যোবায়ের ফার্মেসী’র মালিক ডাঃ মোঃ জয়নাল আবেদীনের কাছে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে দেখতে পান। অভিযোগ রয়েছে, আশঙ্কাজনক অবস্থা সত্ত্বেও আসামিরা কাজলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে পাঠাতে বাধা দেন। পরবর্তীতে স্বজনরা জোরপূর্বক তাকে উদ্ধার করে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে ওই দিন রাত ১১:৪০ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোঃ কবির বাদী হয়ে স্বামী মোঃ অনিক মিয়া (১৯), শাশুড়ি অঞ্জনা বেগম (৩৫), শ্বশুর মোঃ উজ্জ্বল মিয়া (৪৫) এবং স্থানীয় চিকিৎসক ডাঃ মোঃ জয়নাল আবেদীনসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ও আইনগত অবহেলার অভিযোগ এনে আশুলিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার বিষয়ে আশুলিয়া থানার কর্মকর্তা জানান, লিখিত অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের আলোকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
রাউফুর রহমান পরাগ 











