
ঢাকার অদূরে ধামরাইয়ে প্রাক্তন শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল মজুমদারের একটি বাগানবাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ব্যাটারি পুড়িয়ে সিসা উৎপাদন করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযানে কারখানাটির অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং এর মালিককে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে উপজেলাধীন কুল্লা ইউনিয়নের বরাকৈর এলাকায় এই সাহসিকতাপূর্ণ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাস এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন।অভিযানসূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ওই নির্জন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর আড়ালে অবৈধ উপায়ে ব্যবহৃত ব্যাটারি গলিয়ে সিসা তৈরি করা হচ্ছিল। এই প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত ক্ষতিকর, যা শুধুমাত্র আশেপাশের পরিবেশকে মারাত্মকভাবে দূষিত করেনি, বরং স্থানীয় জনসাধারণের স্বাস্থ্যের জন্যও ভয়াবহ ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
পরিবেশ অধিদপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “দীর্ঘদিন ধরে এই কারখানাটি পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করি। ২ লাখ টাকা জরিমানার পাশাপাশি, কারখানাটির সমস্ত অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, যাতে করে ভবিষ্যতে এখানে আর কখনোই এমন ক্ষতিকর কর্মকাণ্ড পুনরায় শুরু হতে না পারে।”
এই অভিযান এবং বিশাল জরিমানার খবরটি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। প্রাক্তন মন্ত্রীর বাগানবাড়িতে এমন পরিবেশবিধ্বংসী কার্যকলাপ চলতে থাকায় সাধারণ মানুষের মনেও বিস্ময় এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাস অত্যন্ত কঠোর ও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে, পরিবেশবিরোধী এবং অবৈধ শিল্পকারখানার বিরুদ্ধে তাঁদের এই ধারাবাহিক অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, “পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করে এবং মানুষের জীবন ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে ফেলে কোনোভাবেই কোনো অবৈধ কার্যক্রম ধামরাই বা দেশের কোথাও পরিচালনা করার সুযোগ দেওয়া হবে না।”
স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা এবং সাধারণ জনগন এই সাহসী পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন এবং অবিলম্বে পরিবেশ দূষণকারী সকল অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আগামী দিনগুলোতেও পরিবেশ অধিদপ্তরের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে এবং পরিবেশ রক্ষায় তাঁরা আরও কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন সবাই। এই অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ সিসা কারখানার মালিক এবং পরিবেশবিরোধীদের প্রতি একটি জোরালো সতর্কবার্তা প্রেরণ করা হয়েছে, যা ধামরাইয়ের মতো অন্যান্য এলাকাতেও প্রভাব বিস্তার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আশরাফুল আলম 









