ঢাকা ০৬:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাভারের বেদেপাড়া থেকে মাদক উদ্ধার, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূলহোতারা

সাভারের বেদেপাড়া যেন মাদকের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। বেদেপাড়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন সময় মাদক উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হলেও মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা মূলহোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে—এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

 

স্থানীয়দের দাবি, খুচরা বিক্রেতা ও বহনকারীদের আটক করা হলেও মাদকের বড় কারবার নিয়ন্ত্রণকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকায় মাদকের বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেদেপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন অপরিচিত ব্যক্তির আনাগোনা বাড়ে। ছোট ছোট পরিসরে মাদক সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক এনে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাঝেমধ্যে মাদক উদ্ধার হলেও অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার পর আবারও একই কার্যক্রম শুরু হওয়ার অভিযোগ করেন তারা।

 

এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাদক ব্যবসায় জড়িতদের একটি অংশ প্রকাশ্যে না থেকে আড়ালে থেকে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের হয়ে অন্যরা মাদক বহন ও বিক্রি করে। ফলে অভিযানে সাধারণত নিচের সারির বিক্রেতা বা বহনকারীরা আটক হলেও অর্থ ও যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনাকারীরা আড়ালেই থেকে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

বেদেপাড়ার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাঝেমধ্যে অভিযান হয়, মাদকও উদ্ধার হয়। কিন্তু আমরা চাই যারা এই ব্যবসার পেছনে রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক। শুধু একজন-দুজন বিক্রেতাকে আটক করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

 

আরেক পথচারী বলেন, মাদকের কারণে এলাকার পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তরুণদের একটি অংশ মাদকের সংস্পর্শে চলে যাচ্ছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। প্রশাসন যদি নিয়মিত নজরদারি করে এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা থাকলেও ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। তাদের অভিযোগ, মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গেলে অনেক সময় নানা ধরনের চাপ বা হয়রানির আশঙ্কা থাকে। ফলে প্রত্যক্ষ তথ্য থাকলেও অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে আগ্রহী হন না।

 

অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদকের সহজলভ্যতা তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাদের মতে, মাদক প্রতিরোধে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; মাদকের উৎস, সরবরাহকারী এবং অর্থের লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ধারাবাহিকভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও জোরদার করার দাবি জানান তারা।

স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী বলেন, আমরা চাই এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক। মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসনের উচিত অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা এবং নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

 

সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদক ব্যবসা বন্ধে পুলিশের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মাদকের সরবরাহের পথ, বিক্রির স্থান এবং এর সঙ্গে জড়িত অর্থের উৎস শনাক্ত করা গেলে নেপথ্যের কারবারিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বেদেপাড়া এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে।

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাদক উদ্ধার ও খুচরা বিক্রেতা আটকের পাশাপাশি মাদকের মূল সরবরাহকারী ও নেপথ্যের কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়িয়ে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের মতে, মূলহোতাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না হলে অভিযান সত্ত্বেও বেদেপাড়ায় মাদক ব্যবসার শিকড় পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন হবে।

ট্যাগ:

সাভারের বেদেপাড়া থেকে মাদক উদ্ধার, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূলহোতারা

আপডেট সময়: ০৬:১৮:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভারের বেদেপাড়া যেন মাদকের স্বর্গরাজ্য হয়ে উঠেছে। বেদেপাড়া এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে বিভিন্ন সময় মাদক উদ্ধার ও কয়েকজনকে আটক করা হলেও মাদক ব্যবসার নেপথ্যে থাকা মূলহোতারা থেকে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে—এমন অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।

 

স্থানীয়দের দাবি, খুচরা বিক্রেতা ও বহনকারীদের আটক করা হলেও মাদকের বড় কারবার নিয়ন্ত্রণকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকায় মাদকের বিস্তার পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, বেদেপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাদক কেনাবেচার অভিযোগ রয়েছে। সন্ধ্যার পর থেকে বিভিন্ন অপরিচিত ব্যক্তির আনাগোনা বাড়ে। ছোট ছোট পরিসরে মাদক সরবরাহের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থান থেকে মাদক এনে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় মাঝেমধ্যে মাদক উদ্ধার হলেও অভিযানের পর কিছুদিন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকার পর আবারও একই কার্যক্রম শুরু হওয়ার অভিযোগ করেন তারা।

 

এলাকাবাসীর ভাষ্য, মাদক ব্যবসায় জড়িতদের একটি অংশ প্রকাশ্যে না থেকে আড়ালে থেকে পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করে। তাদের হয়ে অন্যরা মাদক বহন ও বিক্রি করে। ফলে অভিযানে সাধারণত নিচের সারির বিক্রেতা বা বহনকারীরা আটক হলেও অর্থ ও যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনাকারীরা আড়ালেই থেকে যায় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

বেদেপাড়ার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাঝেমধ্যে অভিযান হয়, মাদকও উদ্ধার হয়। কিন্তু আমরা চাই যারা এই ব্যবসার পেছনে রয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক। শুধু একজন-দুজন বিক্রেতাকে আটক করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না।

 

আরেক পথচারী বলেন, মাদকের কারণে এলাকার পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তরুণদের একটি অংশ মাদকের সংস্পর্শে চলে যাচ্ছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। প্রশাসন যদি নিয়মিত নজরদারি করে এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

 

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, মাদক ব্যবসার সঙ্গে কারা জড়িত তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা থাকলেও ভয়ে অনেকে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চান না। তাদের অভিযোগ, মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে গেলে অনেক সময় নানা ধরনের চাপ বা হয়রানির আশঙ্কা থাকে। ফলে প্রত্যক্ষ তথ্য থাকলেও অনেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে আগ্রহী হন না।

 

অভিভাবকদের অভিযোগ, মাদকের সহজলভ্যতা তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তাদের মতে, মাদক প্রতিরোধে শুধু অভিযান পরিচালনা করলেই হবে না; মাদকের উৎস, সরবরাহকারী এবং অর্থের লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে ধারাবাহিকভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও জোরদার করার দাবি জানান তারা।

স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী বলেন, আমরা চাই এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক। মাদক ব্যবসার কারণে এলাকার সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রশাসনের উচিত অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা এবং নিরপরাধ কাউকে হয়রানি না করে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

 

সচেতন নাগরিকদের মতে, মাদক ব্যবসা বন্ধে পুলিশের পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বিতভাবে কাজ করা প্রয়োজন। বিশেষ করে মাদকের সরবরাহের পথ, বিক্রির স্থান এবং এর সঙ্গে জড়িত অর্থের উৎস শনাক্ত করা গেলে নেপথ্যের কারবারিদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বলা হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং মাদক ব্যবসা ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এলাকাবাসীর দাবি, বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, বেদেপাড়া এলাকায় নিয়মিত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে হবে।

 

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাদক উদ্ধার ও খুচরা বিক্রেতা আটকের পাশাপাশি মাদকের মূল সরবরাহকারী ও নেপথ্যের কারবারিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে এলাকায় মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়িয়ে তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। তাদের মতে, মূলহোতাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা না হলে অভিযান সত্ত্বেও বেদেপাড়ায় মাদক ব্যবসার শিকড় পুরোপুরি নির্মূল করা কঠিন হবে।