
সাভার পৌরসভার ১৩ জন টিকাদান কর্মীর অভিযোগ, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অশালীন আচরণ ও অশোভন ইঙ্গিতের লিখিত অভিযোগ করার পর তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের পরপরই সেপ্টেম্বর মাসের এক দিনের বেতন কর্তন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।
জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর ওই ১৩ জন টিকাদান কর্মী সাভার পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করে কর্তন করা এক দিনের বেতন ফেরতের দাবি জানান। এর আগে একই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অশালীন কথাবার্তা, অশোভন ইঙ্গিত এবং কর্মক্ষেত্রে অসদাচরণের অভিযোগ এনে তারা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও পৃথক লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
অভিযোগকারী কর্মীদের ভাষ্যমতে, সাভার পৌরসভায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে প্রায় ১৫ জন নারী টিকাদান কর্মী কর্মরত রয়েছেন। টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি তাদের দিয়ে জন্ম নিবন্ধন কার্যক্রম এবং পৌরসভার বিভিন্ন দপ্তরে পিয়নের দায়িত্বও পালন করানো হয়। তারা দৈনিক হাজিরাভিত্তিক কাজ করলেও মাসে মাত্র ২৪ দিনের মজুরি পান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন টিকাদান কর্মী জানান, অন্যান্য কর্মচারীদের মতো অফিসের সব কার্যদিবসে দায়িত্ব পালন করলেও তারা পুরো মাসের বেতন পান না। এ বিষয়ে দাবি জানালে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং বিভিন্ন সময় অশোভন ইঙ্গিত করেন বলে অভিযোগ করেন তারা। এমনকি রাতের বেলা ডেকে পাঠিয়ে উপস্থিত না হলে চাকরি ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
ভুক্তভোগী কর্মীদের দাবি, এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তারা একত্রিত হয়ে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপরই সেপ্টেম্বর মাসের এক দিনের বেতন কেটে নেওয়া হয়, যা তারা প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন।
বেতন ফেরতের আবেদনপত্রে স্বাক্ষরকারী ১৩ জন কর্মী হলেন— হাজেরা আক্তার, ইলোরা আক্তার, মবিনুর আলম, রিনা আক্তার, ফাতেমা খাতুন, হাসিনা আক্তার, লিটন মিয়া, আশরাফুল হক, শিরিন আক্তার, নাছিমা আক্তার, নাজমুল হক, সুফিয়া আক্তার ও ফাতেমা আক্তার।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
এছাড়া এ বিষয়ে সাভার পৌর প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখন পর্যন্ত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্টাফ রিপোর্টার 











