
ঢাকার ধামরাই উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের বংশী নদী থেকে এক অজ্ঞাত মধ্যবয়সী পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে উপজেলার সোমভাগ ইউনিয়নের দেপাশাই নয়াপাড়া খেলার মাঠ সংলগ্ন বংশী নদী থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই লোমহর্ষক ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার ঠিক প্রাক্কালে নদীমঞ্চের মতো বিস্তৃত এই জলরাশিতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নদী ও আশপাশের এলাকায় মরদেহটি ভাসতে দেখে দ্রুত তারা বিষয়টি ধামরাই থানাকে অবহিত করেন।
খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি দায়িত্বশীল দল দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয় এবং স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় নদী থেকে মরদেহটি ডাঙায় তুলে আনে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে পানিতে ভেসে থাকার কারণে মরদেহটি পচে ফুলে উঠায় এবং মুখমণ্ডল ও শরীর বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পরিচয় বা পরিচয় নিশ্চিত করার মতো কোনো বৈধ কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। মরদেহের অবয়ব ও শারীরিক গঠন পর্যালোচনা করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে যে নিহত ব্যক্তি আনুমানিক মধ্যবয়সী একজন পুরুষ।
ঘটনার খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। আইনি প্রক্রিয়া ও নিবিড় তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তাৎক্ষণিকভাবে খবর দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সোমবারের ভোরে ময়নাতদন্তের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার জন্য মরদেহটি রাজধানী ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের জন্য পিবিআইয়ের ফিঙ্গারপ্রিন্ট বিশেষজ্ঞ দল ও আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তার কাজ চলছে। ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে আসার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে এবং এই আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় অন্যান্য আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া বর্তমানে জোরালোভাবে অব্যাহত রয়েছে।
আশরাফুল আলম 












