
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটিয়ে আশুলিয়া-ধউর সড়কের সার্ভিস লেন চালু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টদের মধ্যে। গুরুত্বপূর্ণ এই সার্ভিস লেন চালু হওয়ায় মূল সড়কের ওপর যানবাহনের চাপ কমার পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন আশুলিয়া ও সাভারের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতিদিন হাজারো শ্রমিক, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও ব্যবসায়ী এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কের বিভিন্ন অংশে যানজট, ধীরগতির যানবাহন ও অব্যবস্থাপনার কারণে তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে যানজটের কারণে কর্মস্থলে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগত। সার্ভিস লেন চালু হওয়ায় এখন সেই পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সার্ভিস লেন চালু হওয়ায় আমাদের চলাচলে অনেক সুবিধা হয়েছে। আগে অল্প দূরত্ব যেতেও যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থাকতে হতো। এখন স্থানীয় যানবাহনগুলো সার্ভিস লেন ব্যবহার করতে পারলে মূল সড়কে চাপ আরও কমবে।
আশুলিয়ার একজন পোশাকশ্রমিক বলেন, প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে কারখানায় যেতে হয়। যানজটের কারণে অনেক সময় দেরি হয়ে যেত। সার্ভিস লেনটি নিয়ম মেনে ব্যবহার করা গেলে আমাদের সময় ও ভোগান্তি দুটোই কমবে।
সাভারের এক ব্যবসায়ী বলেন, আশুলিয়া-ধউর সড়কটি শুধু স্থানীয় মানুষের জন্য নয়, পুরো সাভার অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সার্ভিস লেন চালু হওয়া নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে এটি যেন অবৈধ পার্কিং, দোকানপাট বা দখলের কারণে আবার অচল হয়ে না যায়, সেদিকে নজর রাখতে হবে।
স্থানীয়দের মতে, সার্ভিস লেন চালুর পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা জরুরি। বিশেষ করে ইজিবাইক, অটোরিকশা, বাস ও অন্যান্য যানবাহন যেন নির্ধারিত লেন ও নিয়ম মেনে চলাচল করে, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং যত্রতত্র যানবাহন দাঁড় করানো বন্ধ করা গেলে সড়কটির সুফল আরও বেশি পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, সার্ভিস লেন থাকলে ছোট যানবাহনগুলো আলাদা পথে চলতে পারে। এতে মূল সড়কে বড় যানবাহনের চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়। তবে সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।
সাভার ও আশুলিয়ার সচেতন নাগরিকদের প্রত্যাশা, সার্ভিস লেনটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি দখল ও অবৈধ পার্কিংমুক্ত রাখা হবে। প্রয়োজনে ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর দাবিও জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট নিরসনে সার্ভিস লেন চালু একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর যথাযথ ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে আশুলিয়া-ধউর সড়কে যানজট কমবে, যাতায়াতের সময় বাঁচবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় আরও স্বস্তি ফিরবে।
স্টাফ রিপোর্টার 











