
সাভার ও আশুলিয়ায় আন্দোলনের নামে সড়কে যানবাহন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, পোশাক কারখানায় হামলা, সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টির ঘটনায় ক্ষোভ বাড়ছে সাভার ও আশুলিয়ায়।
প্রতিদিন আন্দোলনের নামে পোশাক শ্রমিকদের উশৃঙ্খল আচরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সাভার ও আশুলিয়ার সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পোশাক শ্রমিকদের নৃশংসতা ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কারণে পুরো এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাভারের বাসিন্দা আব্দুল কাইয়ুম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কিছুদিন পর পর পোশাক শ্রমিকদের বিভিন্ন অযৌক্তিক দাবি এবং সেটা নিয়ে সাভার ও আশুলিয়ায় তান্ডব চালিয়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা নষ্ট এবং সেই সঙ্গে সাভার ও আশুলিয়াকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে।
আশুলিয়ার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই সমস্ত উশৃংখল পোশাক শ্রমিকদের সরকার প্রশাসনের মাধ্যমে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সেই সঙ্গে উশৃংখল আচরণ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত সকল পোশাক শ্রমিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
গত কয়েক দিন ধরে সাভার ও আশুলিয়ার বিভিন্ন এলাকায় পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন, সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। অত্র অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ব্যবস্থা ও পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও পরিবহনযাত্রীরা দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কোথাও কোথাও আন্দোলনের নামে যানবাহন ভাঙচুর, কারখানায় হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগও সামনে এসেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। শ্রমিকদের অধিকারের কথা বলে সাধারণ মানুষের জানমাল ও জীবিকার ওপর আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
একজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা বলেন, আন্দোলনের নামে গাড়ি ভাঙচুর, রাস্তায় আগুন দেওয়া কিংবা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এতে শ্রমিকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
আরেকজন কর্মজীবী ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে আমাদের সড়কে বের হতে হয়। কিন্তু আন্দোলনের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হচ্ছে। অনেক সময় জরুরি কাজেও যাওয়া যাচ্ছে না। যারা ভাঙচুর ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা উচিত।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, শ্রমিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে শিল্পাঞ্চলের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি পোশাকশিল্পের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।
সচেতন মহলের দাবি, আন্দোলনের নামে যারা যানবাহন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, কারখানায় হামলা কিংবা সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে, তাদের রাজনৈতিক বা শ্রমিক পরিচয় বিবেচনা না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনতে হবে।
তাদের মতে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষকে ব্যবহার করে শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে কি না, সেটিও তদন্ত করা প্রয়োজন।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, শ্রমিক আন্দোলনের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সরকার ও পোশাক কারখানার মালিকপক্ষ যৌথভাবে কঠোর হস্তে মোকাবেলা করা উচিত।
রিপোর্টারের নাম 







