ঢাকা ০৭:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ধামরাইয়ে ইউপি সদস্যের ছেলের চুরির বিচার করায় তিনজনকে কুপিয়ে জখম

ঢাকার ধামরাইয়ে ইউপি সদস্যের ছেলের চুরির ঘটনার বিচার করায় তিনজনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে মুক্তিবুর রহমান মুক্তি নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কায়কোবাদের মা আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার ধামরাই ইউনিয়নের হাজিপুর পশ্চিম পাড়া এলাকায়।
আহতরা হলেন- আল আমিন(৩০), সোহরাব (৩৫) ও কায়কোবাদ (২৮)।
আসামীরা হলেন – মুক্তি (৫৫), মোয়াজ্জেম (৩৫), সালাউদ্দিন (৪০), পাচু মিয়া(২২), শফিকুল (২৫), জাহানারা বেগম (২৮), আদম(২০) ও আবু বকর(২৫)।
জানা যায়, ধামরাই ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান মুক্তির ছেলে পাচু মিয়া ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তারের বাড়ি থেকে হাস চুরি করে বিক্রি করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন মুক্তি মেম্বারের ছেলে পাচু মিয়ার বিচার করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাচু মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় চুরিসহ নানা ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত। বাবা ইউপি সদস্য থাকায় অনেকেই তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। হাস চুরির জেরে রাত সাড়ে আটটার দিকে ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান ও ছেলে পাচু মিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আকলিমা আক্তারের বাড়িতে হামলা করে। বাড়ির প্রধান ফটক অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ভেঙে ফেলে। বিষয়টি আকলিমা আক্তার তার ভাই আল আমিন, দেবর সোহরাব ও ছেলে কায়কোবাদ কে জানালে তারা বাড়ির দিকে আসতে থাকে। মুক্তিবুর রহমানের সন্ত্রাসী বাহিনী বাড়ির পাশে রাস্তায় অবরোধ করে আল আমিন, সোহরাব ও কায়কোবাদ কে। নির্জন রাস্তায় তাদের কে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাদের ডাকচিৎকারে আশে পাশের লোকজন ছুটে এলে মুক্তিবুর মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনী চলে যায়। এ ঘটনায় আকলিমা আক্তারের ছেলে কায়কোবাদ, ভাই আল আমিন ও দেবর সোহরাব কে ইসলামপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। কায়কোবাদ ও দেবর সোহরাবের অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে ঔই হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কা জনক। কায়কোবাদের সাথে থাকা ব্যবসার দেড় লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয় মুক্তিবুর মেম্বারের লোকজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয়রা জানান, মুক্তিবুর মেম্বারের ছেলে চুরিসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত। তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে । এলাকায় কেউ মুক্তিবুর মেম্বারের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। মেম্বারের ছেলে পাচু মিয়ার চুরি ও বিচারের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানাকে মেনে নিতে পারে নি। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের উপর এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে মুক্তিবুর মেম্বারকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তার বলেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে সব সময় মুক্তিবুর মেম্বার আমাদের উপর নির্যাতন করে যাচ্ছেন। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আমার বাড়িতে অস্ত্র নিয়ে মুক্তিবুর মেম্বার বাড়ির গেট কুপিয়েছে। বাড়িতে আসার পথে রাস্তায় আমার ছেলে ভাই ও দেবরকে বেধড়ক কুপিয়েছে। তারা এখন সাভার এনাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কা জনক। কায়কোবাদের মাথায় একাধিক কুপ দেওয়ায় মাথার খুলি ভিতরে চলে গেছে।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, গতকাল রাতের ঘটনায় উভয় পক্ষই অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করা হয়েছে। উর্ধর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে অতিদ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ট্যাগ:

ধামরাইয়ে ইউপি সদস্যের ছেলের চুরির বিচার করায় তিনজনকে কুপিয়ে জখম

আপডেট সময়: ০৬:৩২:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
ঢাকার ধামরাইয়ে ইউপি সদস্যের ছেলের চুরির ঘটনার বিচার করায় তিনজনকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করার অভিযোগ উঠেছে মুক্তিবুর রহমান মুক্তি নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কায়কোবাদের মা আকলিমা আক্তার বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
এমন ঘটনা ঘটেছে উপজেলার ধামরাই ইউনিয়নের হাজিপুর পশ্চিম পাড়া এলাকায়।
আহতরা হলেন- আল আমিন(৩০), সোহরাব (৩৫) ও কায়কোবাদ (২৮)।
আসামীরা হলেন – মুক্তি (৫৫), মোয়াজ্জেম (৩৫), সালাউদ্দিন (৪০), পাচু মিয়া(২২), শফিকুল (২৫), জাহানারা বেগম (২৮), আদম(২০) ও আবু বকর(২৫)।
জানা যায়, ধামরাই ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান মুক্তির ছেলে পাচু মিয়া ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তারের বাড়ি থেকে হাস চুরি করে বিক্রি করে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় লোকজন মুক্তি মেম্বারের ছেলে পাচু মিয়ার বিচার করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। পাচু মিয়ার বিরুদ্ধে এলাকায় চুরিসহ নানা ধরনের অপরাধের সাথে জড়িত। বাবা ইউপি সদস্য থাকায় অনেকেই তার বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। হাস চুরির জেরে রাত সাড়ে আটটার দিকে ইউপি সদস্য মুক্তিবুর রহমান ও ছেলে পাচু মিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আকলিমা আক্তারের বাড়িতে হামলা করে। বাড়ির প্রধান ফটক অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ভেঙে ফেলে। বিষয়টি আকলিমা আক্তার তার ভাই আল আমিন, দেবর সোহরাব ও ছেলে কায়কোবাদ কে জানালে তারা বাড়ির দিকে আসতে থাকে। মুক্তিবুর রহমানের সন্ত্রাসী বাহিনী বাড়ির পাশে রাস্তায় অবরোধ করে আল আমিন, সোহরাব ও কায়কোবাদ কে। নির্জন রাস্তায় তাদের কে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। তাদের ডাকচিৎকারে আশে পাশের লোকজন ছুটে এলে মুক্তিবুর মেম্বারের সন্ত্রাসী বাহিনী চলে যায়। এ ঘটনায় আকলিমা আক্তারের ছেলে কায়কোবাদ, ভাই আল আমিন ও দেবর সোহরাব কে ইসলামপুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। কায়কোবাদ ও দেবর সোহরাবের অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে ঔই হাসপাতালে তারা চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কা জনক। কায়কোবাদের সাথে থাকা ব্যবসার দেড় লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেয় মুক্তিবুর মেম্বারের লোকজন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয়রা জানান, মুক্তিবুর মেম্বারের ছেলে চুরিসহ নানা অপরাধের সাথে জড়িত। তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে । এলাকায় কেউ মুক্তিবুর মেম্বারের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পায় না। মেম্বারের ছেলে পাচু মিয়ার চুরি ও বিচারের মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা জরিমানাকে মেনে নিতে পারে নি। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের উপর এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
এ বিষয়ে মুক্তিবুর মেম্বারকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আকলিমা আক্তার বলেন, পূর্ব শত্রুতার কারণে সব সময় মুক্তিবুর মেম্বার আমাদের উপর নির্যাতন করে যাচ্ছেন। গতকাল সোমবার রাত সাড়ে আটটার দিকে আমার বাড়িতে অস্ত্র নিয়ে মুক্তিবুর মেম্বার বাড়ির গেট কুপিয়েছে। বাড়িতে আসার পথে রাস্তায় আমার ছেলে ভাই ও দেবরকে বেধড়ক কুপিয়েছে। তারা এখন সাভার এনাম মেডিকেল কলেজে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। তাদের অবস্থা আশঙ্কা জনক। কায়কোবাদের মাথায় একাধিক কুপ দেওয়ায় মাথার খুলি ভিতরে চলে গেছে।
এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল হুদা খান বলেন, গতকাল রাতের ঘটনায় উভয় পক্ষই অভিযোগ করেছেন। তদন্ত করা হয়েছে। উর্ধর্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে অতিদ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।