ঢাকা ০৯:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা – ১৯ আসনে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই, প্রচারণায় ব্যস্ত নেতাকর্মীরা

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা–১৯ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। সাভার ও আশুলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধানের শীষের প্রার্থী ডা. সালাউদ্দিন বাবু, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শাপলা কলি নিয়ে দিলশানা পারুল, ট্রাক প্রতিক নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন এবং লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইমতিয়াজ হোসেন বাহাদুরের প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে জনপদ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ।
ধানের শীষের প্রার্থী ডা. সালাউদ্দিন বাবু শুরু থেকেই মাঠে বেশ সক্রিয়। সাভার বাজার, নবীনগর, আশুলিয়া থানা রোড, ইপিজেড ও শিল্পাঞ্চল এলাকায় প্রতিদিনই তার প্রচারণা চোখে পড়ছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তার গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। প্রচারণায় তিনি জনগণের ভোটাধিকার, চিকিৎসা সেবা, কর্মসংস্থান এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়গুলো তুলে ধরছেন।
ডা. সালাউদ্দিন বাবু এক পথসভায় বলেন, “এই আসনের মানুষ বহু বছর ধরে অবহেলিত। আমি রাজনীতি করি মানুষের সেবার জন্য। নির্বাচিত হলে সাভার-আশুলিয়ার স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে আমার অগ্রাধিকার।”
তার প্রচারণায় সাড়া মিলছে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে। আশুলিয়ার এক গার্মেন্টস শ্রমিক বলেন, “ডাক্তার সাহেব মানুষের কথা শোনেন। আমরা চাই এমন একজন এমপি, যিনি আমাদের কষ্ট বুঝবেন।”
অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুল নারী নেতৃত্ব হিসেবে আলাদা মাত্রা যোগ করেছেন নির্বাচনী মাঠে। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, উঠান বৈঠক করছেন এবং সামাজিক সচেতনতার কথা তুলে ধরছেন। তার প্রচারণায় নারীর অধিকার, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুল বলেন, “নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। এই আসনের নারীরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে পরিবর্তন আসবেই। আমি সংসদে নারীদের কণ্ঠস্বর হতে চাই।”
একজন নারী ভোটার জানান, “নারী প্রার্থী হিসেবে তিনি আমাদের অনেক কাছের মানুষ। তিনি কথা বলেন সাহস নিয়ে, এটা ভালো লাগে।”
গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতি ও আইনের শাসনের বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তিনি ছোট ছোট সভা, চা-চক্র ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তার প্রচারণায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা উঠে আসছে।
অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন বলেন, “এই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে সংসদে সৎ ও সাহসী মানুষ দরকার। আমি ক্ষমতার রাজনীতি নয়, ন্যায়ের রাজনীতি করতে চাই।”
তার প্রচারণায় শিক্ষিত তরুণ ও সচেতন ভোটারদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাভারের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “তিনি আইনজীবী, তাই দেশের আইন ও সংবিধান নিয়ে কথা বলেন। এটা আমাদের কাছে যুক্তিসংগত মনে হয়।”

জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইমতিয়াজ হোসেন বাহাদুর দলীয় ঐতিহ্য ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন বাজার, ব্যবসায়িক এলাকা ও আবাসিক মহল্লায় গণসংযোগ করছেন।
ইমতিয়াজ হোসেন বাহাদুর বলেন, “জাতীয় পার্টি সব সময় বাস্তবসম্মত রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পক্ষে।”
একজন ব্যবসায়ী ভোটার জানান, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও ব্যবসাবান্ধব এলাকা। জাতীয় পার্টি সেই নিশ্চয়তা দিতে পারে বলে মনে করি।”
এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও আগ্রহ বাড়ছে। কেউ উন্নয়নকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, কেউ আবার ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সাভারের এক প্রবীণ ভোটার বলেন, “ভোট যদি ঠিকমতো দিতে পারি, তাহলেই ভালো মানুষকে বেছে নেওয়া সম্ভব।”
আশুলিয়ার এক তরুণ ভোটার বলেন, “আমরা চাই নতুন চিন্তা, নতুন নেতৃত্ব। শুধু স্লোগান নয়, কাজ দেখতে চাই।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। কোথাও যেন সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ঢাকা–১৯ সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ধানের শীষের ডা. সালাউদ্দিন বাবু, ১১ দলীয় জোটের দিলশানা পারুল, গণঅধিকার পরিষদের অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন এবং জাতীয় পার্টির ইমতিয়াজ হোসেন বাহাদুর—চার প্রার্থীর প্রচারণায় মুখর সাভার-আশুলিয়া। শেষ পর্যন্ত জনগণের রায় কার পক্ষে যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

ট্যাগ:

ঢাকা – ১৯ আসনে জমে উঠেছে ভোটের লড়াই, প্রচারণায় ব্যস্ত নেতাকর্মীরা

আপডেট সময়: ১০:৫৩:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ঢাকা–১৯ সংসদীয় আসনে নির্বাচনী উত্তাপ দিন দিন বাড়ছে। সাভার ও আশুলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ধানের শীষের প্রার্থী ডা. সালাউদ্দিন বাবু, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী শাপলা কলি নিয়ে দিলশানা পারুল, ট্রাক প্রতিক নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন এবং লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইমতিয়াজ হোসেন বাহাদুরের প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে জনপদ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে গণসংযোগ, পথসভা, উঠান বৈঠক ও লিফলেট বিতরণ।
ধানের শীষের প্রার্থী ডা. সালাউদ্দিন বাবু শুরু থেকেই মাঠে বেশ সক্রিয়। সাভার বাজার, নবীনগর, আশুলিয়া থানা রোড, ইপিজেড ও শিল্পাঞ্চল এলাকায় প্রতিদিনই তার প্রচারণা চোখে পড়ছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও তার গণসংযোগে অংশ নিচ্ছেন। প্রচারণায় তিনি জনগণের ভোটাধিকার, চিকিৎসা সেবা, কর্মসংস্থান এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিষয়গুলো তুলে ধরছেন।
ডা. সালাউদ্দিন বাবু এক পথসভায় বলেন, “এই আসনের মানুষ বহু বছর ধরে অবহেলিত। আমি রাজনীতি করি মানুষের সেবার জন্য। নির্বাচিত হলে সাভার-আশুলিয়ার স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাই হবে আমার অগ্রাধিকার।”
তার প্রচারণায় সাড়া মিলছে শ্রমজীবী ও নিম্নআয়ের মানুষের মধ্যে। আশুলিয়ার এক গার্মেন্টস শ্রমিক বলেন, “ডাক্তার সাহেব মানুষের কথা শোনেন। আমরা চাই এমন একজন এমপি, যিনি আমাদের কষ্ট বুঝবেন।”
অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুল নারী নেতৃত্ব হিসেবে আলাদা মাত্রা যোগ করেছেন নির্বাচনী মাঠে। তিনি বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন, উঠান বৈঠক করছেন এবং সামাজিক সচেতনতার কথা তুলে ধরছেন। তার প্রচারণায় নারীর অধিকার, নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক ন্যায়বিচারের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুল বলেন, “নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই। এই আসনের নারীরা যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, তাহলে পরিবর্তন আসবেই। আমি সংসদে নারীদের কণ্ঠস্বর হতে চাই।”
একজন নারী ভোটার জানান, “নারী প্রার্থী হিসেবে তিনি আমাদের অনেক কাছের মানুষ। তিনি কথা বলেন সাহস নিয়ে, এটা ভালো লাগে।”
গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতি ও আইনের শাসনের বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন। তিনি ছোট ছোট সভা, চা-চক্র ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। তার প্রচারণায় প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, বিচারব্যবস্থার সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার কথা উঠে আসছে।
অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন বলেন, “এই দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হলে সংসদে সৎ ও সাহসী মানুষ দরকার। আমি ক্ষমতার রাজনীতি নয়, ন্যায়ের রাজনীতি করতে চাই।”
তার প্রচারণায় শিক্ষিত তরুণ ও সচেতন ভোটারদের অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাভারের এক কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “তিনি আইনজীবী, তাই দেশের আইন ও সংবিধান নিয়ে কথা বলেন। এটা আমাদের কাছে যুক্তিসংগত মনে হয়।”

জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইমতিয়াজ হোসেন বাহাদুর দলীয় ঐতিহ্য ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। তার নেতৃত্বে জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন বাজার, ব্যবসায়িক এলাকা ও আবাসিক মহল্লায় গণসংযোগ করছেন।
ইমতিয়াজ হোসেন বাহাদুর বলেন, “জাতীয় পার্টি সব সময় বাস্তবসম্মত রাজনীতিতে বিশ্বাস করে। আমরা উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার পক্ষে।”
একজন ব্যবসায়ী ভোটার জানান, “আমরা চাই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ও ব্যবসাবান্ধব এলাকা। জাতীয় পার্টি সেই নিশ্চয়তা দিতে পারে বলে মনে করি।”
এদিকে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে আলোচনা ও আগ্রহ বাড়ছে। কেউ উন্নয়নকে প্রাধান্য দিচ্ছেন, কেউ আবার ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সাভারের এক প্রবীণ ভোটার বলেন, “ভোট যদি ঠিকমতো দিতে পারি, তাহলেই ভালো মানুষকে বেছে নেওয়া সম্ভব।”
আশুলিয়ার এক তরুণ ভোটার বলেন, “আমরা চাই নতুন চিন্তা, নতুন নেতৃত্ব। শুধু স্লোগান নয়, কাজ দেখতে চাই।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী প্রচারণা শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে। কোথাও যেন সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ঢাকা–১৯ সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচন বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ধানের শীষের ডা. সালাউদ্দিন বাবু, ১১ দলীয় জোটের দিলশানা পারুল, গণঅধিকার পরিষদের অ্যাডভোকেট শওকত হোসেন এবং জাতীয় পার্টির ইমতিয়াজ হোসেন বাহাদুর—চার প্রার্থীর প্রচারণায় মুখর সাভার-আশুলিয়া। শেষ পর্যন্ত জনগণের রায় কার পক্ষে যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।