ঢাকা ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকা – ১৯ আসনে নীরব হিসাব নিকাশে এগিয়ে সালাউদ্দিন বাবু নাকি দিলশানা পারুল ?

সাভার ও আশুলিয়ার ভোটের মাঠে প্রকাশ্যে শ্লোগান, মিছিল আর গণসংযোগ যতটা চোখে পড়ে, তার চেয়েও গভীর এক নীরব হিসাব–নিকাশ চলছে অলিগলি, কারখানা, চায়ের দোকান আর বাসা–বাড়িতে। ঢাকা–১৯ সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থী ডাক্তার সালাউদ্দিন বাবু ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুল—এই দুই প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে ভিন্ন ভিন্ন বিশ্লেষণ।
পুরোনো ভোট ব্যাংক এখনো কতটা সক্রিয় ?
সাভার বাজারের এক চায়ের দোকানে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন শ্রমিক শাহ আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, “এই এলাকায় বিএনপির ভোট এখনো আছে। ডা. সালাউদ্দিন বাবু আগেও এমপি ছিলেন, মানুষ তাকে চেনে। ভোট ঠিকমতো হলে উনি সুবিধা পাবেন।”
একই বক্তব্য মেলে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায়। স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবু তাহের বলেন,
“মানুষ পরিচিত মুখে ভরসা করে। উনি আগে কাজ করেছেন—এই কথাটা অনেকেই মনে রাখছে।”
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএনপির এই পুরোনো ভোট ব্যাংকের একটি অংশ এখনো নিষ্ক্রিয় ও দ্বিধাগ্রস্ত। দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ঘাটতি ও দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার ক্ষোভ কিছু ভোটারকে নিরুৎসাহিত করেছে।
অন্যদিকে, প্রচারণায় তুলনামূলক কম শব্দ হলেও দিলশানা পারুলের নামটি বারবার উঠে আসছে নারী ও শ্রমজীবী ভোটারদের আলোচনায়। আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার নারী শ্রমিক রুবিনা আক্তার বলেন, “নারী প্রার্থী হওয়ায় আমরা তার দিকে তাকাচ্ছি। তিনি সরাসরি এসে আমাদের কথা শুনেছেন।” স্থানীয় একটি এনজিওকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “নারী ভোটাররা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে পারুলের প্রতি ঝুঁকছেন। এটা ভোটের দিন বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।”
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এনসিপির পক্ষে থাকা জোটভুক্ত দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি নীরবে কেন্দ্রভিত্তিক কাজ করছে, যা শেষ মুহূর্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
ঢাকা–১৯ আসনের সবচেয়ে বড় ভোট ব্যাংক হলো গার্মেন্টস শ্রমিকরা। আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা মুখে কাউকে সমর্থন দিচ্ছি না। ভোটের দিন দেখে দেব। যে আমাদের নিরাপত্তা আর ন্যায্য অধিকার দেবে, তাকেই ভোট যাবে।”
অনুসন্ধানে দেখা যায়, শ্রমিকদের বড় অংশ এখনো ফেন্সে বসে আছে। দুই প্রার্থীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা নিয়েই তারা সিদ্ধান্ত নেবে।
সাভারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাগুলোতে তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রবল অনিশ্চয়তা লক্ষ্য করা গেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, “আমরা উন্নয়ন আর চাকরির কথা শুনতে চাই। কে জিতবে সেটা কম গুরুত্বপূর্ণ, কে কাজ করবে সেটাই আসল।”
তরুণ ভোটারদের বড় অংশ শেষ মুহূর্তে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে—এমন ধারণা স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
ভোটের মাঠে গোপন হিসাব
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সাবেক শিক্ষক মফিজুল ইসলাম বলেন, “ডা. সালাউদ্দিন বাবু অভিজ্ঞতায় এগিয়ে, কিন্তু দিলশানা পারুলের পক্ষে নীরব সমর্থন আছে। এই নীরব ভোট যদি কেন্দ্রে পড়ে, ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, ভোটের দিন টার্নআউটই হবে সবচেয়ে বড় নিয়ামক। ভোটারদের একটাই চাওয়া
সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভোটাররা জয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটে। আশুলিয়ার প্রবীণ বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন,
“আমরা আর নাটক চাই না। ঠিকমতো ভোট দিতে পারলেই যে জিতবে, তাকেই মেনে নেব।”
সব দিক বিবেচনায় ঢাকা–১৯ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট। ডা. সালাউদ্দিন বাবু পুরোনো ভোট ব্যাংক ও অভিজ্ঞতায় সামান্য এগিয়ে থাকলেও, দিলশানা পারুল নারী, শ্রমিক ও নীরব ভোটারদের সমর্থন পেলে বড় চমক দেখাতে পারেন। শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সই জানাবে—সাভার–আশুলিয়ার মানুষ কাকে বেছে নিল। অপেক্ষা মাত্র কয়েক ঘন্টা।
ট্যাগ:

ঢাকা – ১৯ আসনে নীরব হিসাব নিকাশে এগিয়ে সালাউদ্দিন বাবু নাকি দিলশানা পারুল ?

আপডেট সময়: ১১:৫১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সাভার ও আশুলিয়ার ভোটের মাঠে প্রকাশ্যে শ্লোগান, মিছিল আর গণসংযোগ যতটা চোখে পড়ে, তার চেয়েও গভীর এক নীরব হিসাব–নিকাশ চলছে অলিগলি, কারখানা, চায়ের দোকান আর বাসা–বাড়িতে। ঢাকা–১৯ সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থী ডাক্তার সালাউদ্দিন বাবু ও ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দিলশানা পারুল—এই দুই প্রার্থীর জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে চলছে ভিন্ন ভিন্ন বিশ্লেষণ।
পুরোনো ভোট ব্যাংক এখনো কতটা সক্রিয় ?
সাভার বাজারের এক চায়ের দোকানে কথা হয় স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন শ্রমিক শাহ আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, “এই এলাকায় বিএনপির ভোট এখনো আছে। ডা. সালাউদ্দিন বাবু আগেও এমপি ছিলেন, মানুষ তাকে চেনে। ভোট ঠিকমতো হলে উনি সুবিধা পাবেন।”
একই বক্তব্য মেলে আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকায়। স্থানীয় মসজিদের ইমাম আবু তাহের বলেন,
“মানুষ পরিচিত মুখে ভরসা করে। উনি আগে কাজ করেছেন—এই কথাটা অনেকেই মনে রাখছে।”
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএনপির এই পুরোনো ভোট ব্যাংকের একটি অংশ এখনো নিষ্ক্রিয় ও দ্বিধাগ্রস্ত। দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ঘাটতি ও দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার ক্ষোভ কিছু ভোটারকে নিরুৎসাহিত করেছে।
অন্যদিকে, প্রচারণায় তুলনামূলক কম শব্দ হলেও দিলশানা পারুলের নামটি বারবার উঠে আসছে নারী ও শ্রমজীবী ভোটারদের আলোচনায়। আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার নারী শ্রমিক রুবিনা আক্তার বলেন, “নারী প্রার্থী হওয়ায় আমরা তার দিকে তাকাচ্ছি। তিনি সরাসরি এসে আমাদের কথা শুনেছেন।” স্থানীয় একটি এনজিওকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “নারী ভোটাররা প্রকাশ্যে কিছু না বললেও ভেতরে ভেতরে পারুলের প্রতি ঝুঁকছেন। এটা ভোটের দিন বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।”
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, এনসিপির পক্ষে থাকা জোটভুক্ত দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি নীরবে কেন্দ্রভিত্তিক কাজ করছে, যা শেষ মুহূর্তে প্রভাব ফেলতে পারে।
ঢাকা–১৯ আসনের সবচেয়ে বড় ভোট ব্যাংক হলো গার্মেন্টস শ্রমিকরা। আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা মুখে কাউকে সমর্থন দিচ্ছি না। ভোটের দিন দেখে দেব। যে আমাদের নিরাপত্তা আর ন্যায্য অধিকার দেবে, তাকেই ভোট যাবে।”
অনুসন্ধানে দেখা যায়, শ্রমিকদের বড় অংশ এখনো ফেন্সে বসে আছে। দুই প্রার্থীর প্রতিশ্রুতির বাস্তবতা নিয়েই তারা সিদ্ধান্ত নেবে।
সাভারের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাগুলোতে তরুণ ভোটারদের মধ্যে প্রবল অনিশ্চয়তা লক্ষ্য করা গেছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, “আমরা উন্নয়ন আর চাকরির কথা শুনতে চাই। কে জিতবে সেটা কম গুরুত্বপূর্ণ, কে কাজ করবে সেটাই আসল।”
তরুণ ভোটারদের বড় অংশ শেষ মুহূর্তে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেবে—এমন ধারণা স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।
ভোটের মাঠে গোপন হিসাব
স্থানীয় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ও সাবেক শিক্ষক মফিজুল ইসলাম বলেন, “ডা. সালাউদ্দিন বাবু অভিজ্ঞতায় এগিয়ে, কিন্তু দিলশানা পারুলের পক্ষে নীরব সমর্থন আছে। এই নীরব ভোট যদি কেন্দ্রে পড়ে, ফলাফল পাল্টে যেতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, ভোটের দিন টার্নআউটই হবে সবচেয়ে বড় নিয়ামক। ভোটারদের একটাই চাওয়া
সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে কথা বলে একটি বিষয় স্পষ্ট—ভোটাররা জয়ের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটে। আশুলিয়ার প্রবীণ বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন,
“আমরা আর নাটক চাই না। ঠিকমতো ভোট দিতে পারলেই যে জিতবে, তাকেই মেনে নেব।”
সব দিক বিবেচনায় ঢাকা–১৯ আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ইঙ্গিত স্পষ্ট। ডা. সালাউদ্দিন বাবু পুরোনো ভোট ব্যাংক ও অভিজ্ঞতায় সামান্য এগিয়ে থাকলেও, দিলশানা পারুল নারী, শ্রমিক ও নীরব ভোটারদের সমর্থন পেলে বড় চমক দেখাতে পারেন। শেষ পর্যন্ত ব্যালট বাক্সই জানাবে—সাভার–আশুলিয়ার মানুষ কাকে বেছে নিল। অপেক্ষা মাত্র কয়েক ঘন্টা।