প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১৩, ২০২৬, ৮:৩৭ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারী ২৯, ২০২৬, ১২:৫২ পি.এম
সাভার-আশুলিয়ায় নদী ও খাল ভরাটের কারণে বিপর্যস্ত প্রকৃতি ও জনজীবন

রাজধানী ঢাকার নিকটবর্তী সাভার ও আশুলিয়া বর্তমানে শিল্প ও আবাসন নগরীতে পরিণত হয়েছে। দ্রুত নগরায়নের এই প্রবাহে একের পর এক গড়ে উঠছে হাউসিং প্রকল্প। কিন্তু এই তথাকথিত উন্নয়নের আড়ালে নিঃশব্দে ধ্বংস করা হচ্ছে এলাকার প্রাকৃতিক জলাধার। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন হাউসিং কোম্পানি অবৈধভাবে নদী ও খাল ভরাট করে আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যা পরিবেশ, কৃষি ও সাধারণ মানুষের জীবনে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আশুলিয়ার তুরাগ নদীর শাখা খাল, বংশী নদী সংলগ্ন এলাকা এবং সাভারের বিভিন্ন ছোট-বড় খাল বছরের পর বছর ধরে মাটি ও বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে। একসময় এসব খাল বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। বর্তমানে খালগুলো সংকুচিত বা সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র জলাবদ্ধতা। এতে বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, অনেক হাউসিং কোম্পানি পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় রাতের আঁধারে ড্রেজার ও ট্রাক ব্যবহার করে খাল ও নদীতে মাটি ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়রা বাধা দিতে গেলে নানা রকম হুমকি ও চাপের মুখে পড়ছেন, ফলে অনেক ক্ষেত্রেই প্রতিবাদ দমন হয়ে যাচ্ছে।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী ও খাল ভরাটের ফলে শুধু জলাবদ্ধতা নয়, মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্বাভাবিক পুনর্ভরণ প্রক্রিয়া। এর ফলে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে পানির সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। পাশাপাশি ধ্বংস হচ্ছে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল, হারিয়ে যাচ্ছে মাছ ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্য। পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য দ্রুত নষ্ট হয়ে পড়ছে।
যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মাঝে অভিযান ও নোটিশ দেওয়ার খবর পাওয়া যায়, তবে বাস্তবে এসব উদ্যোগ খুব একটা ফলপ্রসূ হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে ভরাট সম্পন্ন হয়ে বহুতল ভবন নির্মাণের পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, যা পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ। এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে অবৈধ ভরাট কার্যক্রম বন্ধ করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং দখলমুক্ত করে নদী ও খালের স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, টেকসই উন্নয়নের জন্য সাভার ও আশুলিয়ার প্রাকৃতিক জলাধার রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি। তা না হলে অপরিকল্পিত হাউসিং ব্যবসার চরম মূল্য দিতে হবে সাধারণ মানুষ ও আগামী প্রজন্মকে।
Copyright © 2026 Protidiner Savar. All rights reserved.