আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে আসন্ন নির্বাচনের প্রচারণা। এরই মধ্যে ঢাকা জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা সাভারে নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।এবার নির্বাচন কমিশন পোস্টার নিষিদ্ধ করায় সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় খন্ড খন্ড মিছিল ও লিফলেট বিতরণ করতে দেখা গেছে। প্রার্থীদের সমর্থনে মাইকিং, পথসভা ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন নেতাকর্মীরা।
স্থানীয় নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রচারণার সময় নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি মেনে চলার জন্য প্রার্থীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময় ও নিয়মের বাইরে কোনো ধরনের প্রচারণা চালানো যাবে না। এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সাভারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে টহল জোরদার করেছে।
সাভার পৌর এলাকা, আশুলিয়া, ধামসোনা, বিরুলিয়া ও তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আজ সকাল থেকেই প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতা চোখে পড়ে। কেউ দলীয় কার্যালয়ে বৈঠক করছেন, কেউ আবার ওয়ার্ডভিত্তিক ভোটার তালিকা নিয়ে কৌশল ঠিক করছেন। অনেক প্রার্থীই বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার পরিকল্পনা নিয়েছেন।
স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, যানজট নিরসন, মাদক নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। সাভার বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান বলেন, “নির্বাচনের সময় সবাই অনেক প্রতিশ্রুতি দেয়। আমরা চাই, যারা নির্বাচিত হবেন তারা যেন কথা অনুযায়ী কাজ করেন।”
এদিকে তরুণ ভোটারদের মধ্যেও আগ্রহ দেখা গেছে। অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রার্থীদের কর্মসূচি ও বক্তব্য নিয়ে আলোচনা করছেন। কলেজ শিক্ষার্থী তানভীর হাসান বলেন, “আমরা এমন প্রতিনিধি চাই, যিনি শিক্ষাব্যবস্থা ও তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা চালাতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা সমর্থক আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে গুজবে কান না দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে আজ থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচারণাকে ঘিরে সাভারে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর হলেও সচেতন পরিবেশ। আগামী কয়েক দিনে প্রচারণা আরও জোরদার হবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এখন দেখার বিষয়, শেষ পর্যন্ত কোন প্রার্থীর বার্তা ভোটারদের মন জয় করতে