সবুজ শেখ নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ছদ্মবেশে অবস্থান করে সাভারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড চালিয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ওই ব্যক্তিই সিরিয়াল কিলার মশিউর রহমান খান ওরফে সম্রাট। পুলিশের দাবি সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টার ও সাভার মডেল মসজিদ এলাকায় মোট ছয়টি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সন্ধায় সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি অপারেশন) হেলাল উদ্দিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় আদালতে হাজির করা হলে সম্রাট ছয়টি হত্যার ঘটনায় নিজের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানায়, সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ। তিনি মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার হলুদিয়া মুছামান্দা গ্রামের বাসিন্দা পান্না শেখের ছেলে। ২০২৪ সাল থেকে তিনি সাভার মডেল মসজিদ এলাকা ও পরে সাভার মডেল থানার আশপাশে ভবঘুরে বেশে অবস্থান করছিলেন।
ওসি অপারেশন হেলাল উদ্দিন বলেন, সম্রাট দীর্ঘদিন ছদ্মবেশে থাকতেন। তদন্তের মাধ্যমে তার প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি প্রথমে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যা করেন। পরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে আশ্রয় নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ড ঘটান।
তিনি আরও জানান, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্রাট ওরফে সবুজ শেখকে শনাক্ত করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করলে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশের তথ্যমতে, সর্বশেষ ঘটনায় সম্রাট দুজনকে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন। তাদের মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। নিহত তরুণীর নাম তানিয়া আক্তার সনিয়া। তিনি রাজধানীর উত্তরার বাসিন্দা জসিম উদ্দিনের মেয়ে। পুলিশ জানায়, ওই তরুণী শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন।
ঘটনাগুলো প্রকাশ্যে আসার পর সাভারজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।