
ঢাকার ধামরাইয়ে রিকশাচালকদের একতরফা, অন্যায্য ও অতিরিক্ত ভাড়া দাবির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে ধামরাইয়ের সাধারণ জনগণ। কোনো প্রকার যুক্তিসংগত কারণ ছাড়া হঠাৎ করেই যাতায়াত খরচ বাড়িয়ে দেওয়ায় চরম অসন্তোষ তৈরি হয়েছে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে। রিকশাচালকদের এই ধরনের স্বেচ্ছাচারী আচরণের উপযুক্ত জবাব দিতে এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতে রাজপথে নেমে এসেছেন এলাকাবাসী। রিকশা ভাড়ার এই চরম নৈরাজ্য ও অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত নস্যাৎ করে দিতে ধামরাইয়ের সাধারণ সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে একটি বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের সূচনা করা হয়।
রোববার ২৫ (অক্টোবর)বিকেলে ধামরাই থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ধামরাইয়ের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা থেকে সাধারণ মানুষ বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এসে জড়ো হতে থাকেন। স্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো বাসস্ট্যান্ড এলাকা। সমাবেশে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী ও শ্রমজীবী মানুষসহ সর্বস্তরের সচেতন নাগরিক একাত্মতা প্রকাশ করেন। প্রতিবাদী জনতার কণ্ঠে একটাই সুর ধ্বনিত হয়—সাধারণ মানুষের পকেট কেটে রিকশা ভাড়ার নৈরাজ্য আর সহ্য করা হবে না।
সমাবেশে উপস্থিত দেওয়ান নজরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে এমনিতেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম কঠিন হয়ে পড়েছে। তার ওপর কোনো ধরনের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে রিকশাচালকরা নিজেদের ইচ্ছেমতো ভাড়া দ্বিগুণ বা তিনগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্বল্প দূরত্বের পথগুলোতেও এখন অযৌক্তিক ভাড়া হাঁকা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
আল আমিন খান পিয়াল বলেন, রিকশাচালকদের এই সিন্ডিকেট ও স্বেচ্ছাচারিতা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতকে নাভিশ্বাসে পরিণত করেছে।
উক্ত প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে 'ভাড়া বাড়ানো চলবে না' এবং 'ন্যায্য ভাড়া নিশ্চিত করো' স্লোগান নিয়ে সাধারণ মানুষ স্পষ্ট বার্তা দেন। বক্তারা অনতিবিলম্বে রিকশার তালিকাভুক্তকরণ ও একটি সর্বজনগ্রাহ্য নির্দিষ্ট ভাড়া তালিকা (রেট চার্ট) প্রণয়নের জোরালো দাবি জানান। একই সাথে রিকশাচালকদের এমন বিশৃঙ্খলা থামাতে স্থানীয় প্রশাসন ও পৌরসভার কঠোর নজরদারি কামনা করা হয়। সাধারণ মানুষের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি—অবিলম্বে যদি এই অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ না হয় এবং একটি সুনির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ করা না হয়, তবে ধামরাইয়ের সাধারণ জনগণ আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।
উক্ত প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন, দেওয়ান নজরুল ইসলাম, বি এ এফ শাহীন কলেজ ঢাকার শিক্ষক মো: সোহেল রানা,তানজিল ইসলাম নিশাদ,মো: আল আমিন খান পিয়াল,রিজভী, মো: আশিকুর রহমান আশিক সহ আরো অনেকে।