
ঢাকার ধামরাই উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবসান ঘটেছে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার।
সোমবার ১২( অক্টোবর) ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সংলগ্ন এই স্পর্শকাতর পয়েন্টে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণে ও যানজট নিরসনে পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে ট্রাফিক পুলিশ বক্স। দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে থাকা এই পুলিশ বক্সটি চালু হওয়ায় মহাসড়ক ব্যবহারকারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মাঝে স্বস্তি ফিরলেও প্রয়োজনের তুলনায় পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য না থাকায় শুরুতেই বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে দায়িত্বপ্রাপ্তদের।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ও ধামরাই উপজেলা সদরের এই সংযোগস্থলটি অত্যন্ত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। টাঙ্গাইল, কালিয়াকৈরসহ বিভিন্ন অঞ্চলের যানবাহন যেমন এই পয়েন্ট দিয়ে মহাসড়কে প্রবেশ করে, তেমনি ধামরাই পৌরসভা, আশপাশের বিভিন্ন ইউনিয়ন, ধামরাই বাজার এবং বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যাতায়াতের মূল পথ এটি। তদুপরি বাসস্ট্যান্ডের ঠিক উত্তর পাশেই রয়েছে স্নোটেক্স আউটওয়্যার লিমিটেড ও দি একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেডের মতো বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিদিন সকালে কারখানা খোলার সময়ে এবং সন্ধ্যায় ছুটির পর হাজার হাজার শ্রমিক ও সাধারণ যাত্রীদের সমাগমে এলাকাটি জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিশেষ করে সকাল ৬টা থেকে ৮টা এবং বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত তীব্র যানজট তৈরি হওয়া নিত্যদিনের চিত্রে পরিণত হয়েছিল।
এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নির্মিত ট্রাফিক পুলিশ বক্সটি প্রতিষ্ঠার প্রথম দিকে কিছু দিন চালু থাকলেও পরবর্তীতে তীব্র জনবল সংকটের কারণে হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। অভিভাবকহীন হয়ে পড়া এই জায়গায় একপর্যায়ে সৃষ্টি হয় চরম বিশৃঙ্খলা। ট্রাফিক বক্সটির সামনের অংশ অটোরিকশা, সিএনজি, ধামরাই-গুলিস্তান রুটের বাস এবং অবৈধ হকারদের দখলে চলে যায়, এমনকি চারপাশে আবর্জনা ফেলার অভিযোগও ওঠে। এতে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল।
অবশেষে ট্রাফিক পুলিশের উপস্থিতি ও কার্যক্রম পুনরায় শুরু হওয়াতে এলাকায় ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। দায়িত্ব পালনরত পুলিশ সদস্যরা নিয়ম অমান্যকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন এবং উল্টো পথে গাড়ি চালানো বন্ধে কাজ করছেন। একই সাথে মহাসড়ক দখলমুক্ত রাখা এবং চালক ও পথচারীদের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতন করতেও নেয়া হচ্ছে নানান পদক্ষেপ। এরই মধ্যে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তবে এত সব প্রত্যাশার মাঝেও বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অপ্রতুল জনবল। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, একটি সুনির্দিষ্ট সীমানার বাইরেও বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে থাকায় সীমিতসংখ্যক সদস্য দিয়ে সব দিক একসাথে সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এলাকার বাসিন্দা ও সুশীল সমাজের মতে, কেবল ট্রাফিক পুলিশ বক্স চালু করাই যথেষ্ট নয়; বরং বাস ও অটোরিকশার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং নিশ্চিত করা, হকারদের উচ্ছেদ এবং সার্বক্ষণিক তদারকি বজায় রাখতে দ্রুত পর্যাপ্ত ফোর্স মোতায়েন করা আবশ্যক। তবেই এই দীর্ঘদিনের উদ্যােগ পূর্ণতা পাবে এবং ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড পুরোপুরি যানজটমুক্ত থাকবে।