
ঢাকার ধামরাই পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থানরত সর্বসাধারণের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি ও চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে এক অপূর্ব ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পৌরসভার কেন্দ্রস্থলে বসবাসকারী প্রতিটি অধিবাসীর সুস্থ ও স্বাভাবিক ধারার সামাজিক এবং মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি আধুনিক, মনোরম ও সম্পূর্ণ পরিবেশবান্ধব পার্ক নির্মাণের সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ হাতে নেওয়া হয়েছে। ধামরাইবাসীর এই বহু প্রতীক্ষিত স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে এবং বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে পার্কের জন্য বিশেষভাবে প্রস্তাবিত স্থানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন।
আজ সোমবার (১১ অক্টোবর) এই গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক পরিদর্শন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্যের সাথে সার্বিক সমন্বয় ও প্রশাসনিক পর্যালোচনার জন্য উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলার সুযোগ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-মামুন। শুধু তাই নয়, এই মহান উদ্যোগকে সাফল্যমণ্ডিত করতে স্থানটিতে আরো স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত ছিলেন ধামরাই উপজেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং এলাকার স্থানীয় প্রবীণ ও নবীন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। পরিদর্শনের সময় উপস্থিত সকল কর্মকর্তাবৃন্দ প্রস্তাবিত ভূমির অবস্থান, পারিপার্শ্বিক পরিবেশ এবং নির্মাণকাজের জন্য প্রয়োজনীয় সার্বিক বিষয়াদি অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।
স্থান পর্যবেক্ষণ শেষে অত্যন্ত আশাবাদ ব্যক্ত করে মাননীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন বলেন যে, কালের পরিক্রমায় ধামরাই পৌরসভা এলাকা দিন দিন অনেক বেশি জনবহুল হয়ে উঠছে। জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও এখানকার পৌরবাসীদের দৈনন্দিন একঘেয়েমি দূর করার মতো পর্যাপ্ত উন্মুক্ত পরিসর বা বিনোদনের স্থান এতকাল ছিল না। বিশেষ করে কোমলমতি শিশুদের সুস্থ খেলাধুলা এবং বয়োবৃদ্ধদের নির্ঝঞ্ঝাট পরিবেশে একটু মুক্ত বাতাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার মতো উপযোগী জায়গার তীব্র সংকট দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ছিল। ধামরাইয়ের আবালবৃদ্ধবনিতা—সকল সর্বসাধারণের জন্য শারীরিক ও মানসিক সতেজতা বা রিফ্রেশমেন্টের সুবর্ণ সুযোগ তৈরির তাগিদেই বর্তমান সরকারের এই জনকল্যাণমুখী ও সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যেই প্রস্তাবিত জমি সংক্রান্ত এবং পার্ক নির্মাণের আনুষঙ্গিক সকল দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক ফাইলওয়ার্ক সম্পন্ন করে দৃশ্যমান নির্মাণকাজ শুরু করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পরিদর্শনকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল-মামুন প্রস্তাবিত ভূমির সীমানা, ভৌগোলিক অবস্থান এবং পারিপার্শ্বিক পরিবেশ অত্যন্ত নিবিড় ও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। স্থানটি যেন একটি সর্বাধুনিক ও পরিবেশবান্ধব পার্কে রূপ নেয়, সে ব্যাপারে সার্বিক মাস্টারপ্ল্যান ও টেকসই নকশা তৈরির বিষয়ে উপস্থিত দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি আশ্বস্ত করে জানান যে, পরিকল্পিত এই পার্কটিতে সব বয়সী মানুষের অবাধ বিচরণ ও চলাচলের উপযোগী প্রশস্ত হাঁটার পথ, ক্লান্তি দূর করার আরামদায়ক বসার সুব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত সবুজের সমারোহ রাখার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। প্রകൃতি ও আধুনিকতার অপূর্ব মিশ্রণে তৈরি হতে যাওয়া এই পার্কটি একদিকে যেমন সাধারণ মানুষের জীবনে বিনোদনের আমেজ এনে দেবে, অন্যদিকে ধামরাই পৌরসভার সার্বিক নান্দনিক সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যকে বহুলাংশে বাড়িয়ে তুলবে।
ঐতিহাসিক এই পরিদর্শনের খবরে স্থানীয় সর্বস্তরের জনগণ এবং সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা জনস্বার্থে নেওয়া এই চমৎকার এবং দূরদর্শী উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি, প্রস্তাবিত স্থানটি কোনো প্রকার দীর্ঘসূত্রতা ছাড়াই অতি দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ ও সর্বাধুনিক পার্কে রূপান্তরিত হয়ে ধামরাইবাসীর কাছে আত্মপ্রকাশ করবে বলে সকলে জোর আশা প্রকাশ করেছেন।