সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নে দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা ও তৎকালীন বিরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সেলিম মন্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং বিরুলিয়া ইউনিয়নকে বিএনপি মুক্ত করার ঘোষণা দেয়া যুবলীগ নেতা শাহাবুদ্দিন এখন বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, দলের কঠিন সময়ে যারা মাঠে ছিলেন, মামলা-হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, তাদের মূল্যায়ন না করে হঠাৎ করে অন্য রাজনৈতিক দলের সাবেক নেতাকর্মীদের সামনে নিয়ে আসা হলে ত্যাগীরা হতাশ হয়ে পড়বেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, শাহাবুদ্দিন অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন দলীয় কর্মকাণ্ডে তার সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। বর্তমানে তিনি বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
বিরুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির এক নেতা বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অনেকেই নতুন করে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছেন। তবে কারও অতীত রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ড যাচাই না করে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়। দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া দরকার।
ইউনিয়ন যুবদলের এক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতি করে আসছি। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও মাঠে ছিলাম। এখন যদি সাবেক যুবলীগ নেতারা এসে দলের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করেন, তাহলে যারা এতদিন দলের জন্য কাজ করেছেন তাদের মূল্য কোথায় থাকবে?
ছাত্রদলের এক নেতা বলেন, বিএনপিতে যোগ দেওয়া বা সমর্থন করা কারও ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অধিকার হতে পারে। কিন্তু দলের সাংগঠনিক পদ কিংবা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে অবশ্যই অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, ত্যাগ এবং দলের প্রতি আনুগত্য বিবেচনা করা উচিত। হঠাৎ করে নতুনদের সামনে নিয়ে এলে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি হতে পারে।
এদিকে বিরুলিয়ার ত্যাগী নেতাকর্মীদের একটি অংশ বলছে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদানের প্রবণতা বেড়েছে। তবে এতে যেন সুবিধাবাদী রাজনীতির সুযোগ তৈরি না হয়, সেদিকে দলীয় নেতৃত্বকে সতর্ক থাকতে হবে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে যারা মামলা, হামলা, গ্রেপ্তার ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন, তাদের মূল্যায়ন করেই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
স্থানীয় এক বিএনপি কর্মী বলেন, আমরা কাউকে ব্যক্তিগতভাবে বিরোধিতা করছি না। কিন্তু দলের স্বার্থে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার—কে কখন কোন দলের সঙ্গে ছিলেন এবং কেন এখন বিএনপিতে এসেছেন। এসব বিষয় যাচাই-বাছাই করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
তবে শাহাবুদ্দিনের বর্তমান বিএনপি-সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তার নিজের বক্তব্য, বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতৃত্বের অবস্থান এবং সাংগঠনিকভাবে তাকে কোনো পদ বা দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া জরুরি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা যুক্ত করা যেতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন রাজনৈতিক কর্মীদের দলে অন্তর্ভুক্ত করা স্বাভাবিক হলেও তৃণমূলের দীর্ঘদিনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় না থাকলে সাংগঠনিক বিরোধ তৈরি হতে পারে। তাই বিরুলিয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে বিএনপির স্থানীয় নেতৃত্বকে ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।