ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য এককালীন ১০ হাজার ও মাসিক ১ হাজার ২০০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সাভারে মা-মেয়েকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় অপু ওরফে ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে। থানায় অভিযোগ করার পর একই পরিবারের সদস্যদের ওপর আবার হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন।
ভুক্তভোগী রিতা বেগম (৩৫) শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
রিতার অভিযোগ, ১১ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার দিকে ভাঙাব্রীজ পূর্বহাটি এলাকায় তাঁকে ও তাঁর মেয়ে নাবিলা আক্তারকে (১৭) পথরোধ করে অপু, ইমন ওরফে হিনজু, মিলন, রায়হান, ইমরানসহ ৮ থেকে ১০ জন। পরে তাঁদের একটি ব্রডব্যান্ড অফিসের সামনে নিয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য ১০ হাজার টাকা এককালীন এবং মাসে ১ হাজার ২০০ টাকা দাবি করা হয়।
দাবিকৃত টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের মারধর করা হয় এবং পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন রিতা। মা-মেয়ের কাপড় টানা-হেঁচড়া করে শ্লীলতাহানি করা হয়, তাঁর ডান চোখে রক্তাক্ত জখম হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
রিতার দাবি, এ সময় তাঁর এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও আট আনি ওজনের কানের দুল এবং তাঁর মেয়ের এক ভরি দুই আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ ৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া তাঁর মুদি দোকানের চাবির ছড়াও নিয়ে ড্রেনে ফেলে দেওয়া হয়।
পরে মা-মেয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে থানায় অভিযোগ করেন।
থানায় অভিযোগ দেওয়ার খবর পেয়ে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে রাত সোয়া ১টার দিকে নালিয়াসুর এলাকায় রিতার বাড়ির সামনে ফের হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি।
এ সময় রিতার বোনের স্বামী ইমন সরকারকে (২৬) চাপাতি দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তা ঠেকাতে গিয়ে তাঁর ডান কনুই গুরুতর কেটে যায়। পরে লোহার রড, হকিস্টিক ও কাঠের লাঠি দিয়ে ইমন, রিতা ও নাবিলাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
আহত তিনজনকে আবারও সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. চাঁদনী আক্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভুক্তভোগী রিতা বেগমের দাবি, থানায় করা অভিযোগ তুলে নিতে তাঁদের চাপ দেওয়া হচ্ছে। মামলা করলে পরিবারের সবাইকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি পরিবারের নিরাপত্তা দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, একই পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।