সাভারের ব্যস্ততম পাকিজা মোড়ের ইউটার্ন এখন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও পরিবহন শ্রমিকদের জন্য যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। যানজট কমানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হলেও বাস্তবে এই ইউটার্নকে ঘিরে প্রতিদিনই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, রোগী ও সাধারণ পথচারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউটার্নটি ব্যবহারের সময় যানবাহনগুলো এলোমেলোভাবে দাঁড়িয়ে পড়ায় দুই পাশের সড়কে যান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল ও বিকেলের ব্যস্ত সময়ে পাকিজা মোড় এলাকায় যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়। ইউটার্ন দিয়ে একসঙ্গে অনেক যানবাহন ঘুরতে গিয়ে সড়কের একটি বড় অংশ দখল করে নেয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয় অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক, বাস, ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ির বেপরোয়া চলাচল। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই সৃষ্টি হয় দীর্ঘ যানজট। অনেক সময় যানজট আশপাশের সড়কেও ছড়িয়ে পড়ে।
পথচারী রাকিব হাসান বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। পাকিজা মোড়ের কাছে এলেই ভয় হয়—কতক্ষণ যানজটে আটকে থাকতে হবে বলা যায় না। ইউটার্নটি যদি যানজটের কারণ হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনা করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।
আরেক পথচারী সুমাইয়া আক্তার বলেন, শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষদের জন্য এই যানজট খুবই কষ্টকর। বিশেষ করে সকালে সময়মতো স্কুল-কলেজ বা কর্মস্থলে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। ইউটার্নের কারণে যদি যানজট বাড়ে, তাহলে এটি বন্ধ করে বিকল্প ব্যবস্থা করা দরকার।
স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, যানজটের কারণে ক্রেতারা দোকানে আসতে চান না। গাড়ির সারি আর মানুষের ভিড়ে পুরো এলাকা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। শুধু ইউটার্ন বন্ধ করলেই হবে না, এর পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং ও রাস্তার ওপর যত্রতত্র গাড়ি দাঁড় করানোও বন্ধ করতে হবে।
একজন অটোরিকশাচালক জানান, ইউটার্নের আশপাশে যানবাহনের সংখ্যা বেশি থাকায় অনেক সময় চালকদের বাধ্য হয়েই রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে যাত্রী তুলতে হয়। এতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। তবে তিনি মনে করেন, ট্রাফিক পুলিশের নিয়মিত নজরদারি ও সুনির্দিষ্ট লেন ব্যবস্থাপনা থাকলে যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব।
স্থানীয়দের দাবি, পাকিজা মোড়ের ইউটার্নটি যানজট কমানোর পরিবর্তে যদি যানজটের অন্যতম কারণ হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত এর কার্যকারিতা পর্যালোচনা করতে হবে। প্রয়োজনে ইউটার্নটি বন্ধ করে বিকল্প ইউটার্ন, ট্রাফিক সিগন্যাল বা অন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের মতে, শুধু ইউটার্ন বন্ধ করাই স্থায়ী সমাধান নয়। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ, অটোরিকশা ও ইজিবাইকের চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।
সাভারবাসীর প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পাকিজা মোড়ের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যানজট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। এতে দীর্ঘদিনের ভোগান্তি থেকে মুক্তি পাবেন পথচারী ও পরিবহন ব্যবহারকারীরা এবং স্বাভাবিক হবে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের যান চলাচল।