সাভারে একটি প্রাইভেট ল্যাবজোন হাসপাতালে কর্মরত ডাক্তার শাহনা ফেরদৌসী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী রোকসানা বেগম।
ভুক্তভোগী রোকসানা বেগম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সহ অভিযুক্ত চিকিৎসক ডাক্তার শাহনা ফেরদৌসীর বিষয়ে তার সাথে ঘটে যাওয়া সকল বিষয়ে দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে চেয়েছেন।
এ বিষয়ে মোছাঃ রোকসানা বেগম (৩০) স্বামী মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সাং ধরেন্ডা, গত ০১/০৯/২০২৬ ইং তারিখে বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ও সাভার স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে, অভিযোগে বলা হয়েছে।১৫/০৫/২০২৬, তারিখে গর্ভের বাচ্চা ডেলিভারির জন্য সাভার মডেল থানাধীন ল্যাবজোন হাসপাতলে যাই উক্ত হাসপাতালে আমার শারীরিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে একই তারিখে দুপুর অনুমান ১২:০০ ঘটিকার দিকে আমাকে ওটিতে পাঠায়। এরপর দুপুর অনুমান ০১,০০ ঘটিকার দিকে ল্যাবজোন হাসপাতালের ডাক্তার শাহানা ফেরদৌসী আমার অপারেশন শুরু করে।
আমার তলপেটের সম্পূর্ণ কাটিয়া আমার পেট থেকে বাচ্চা বাহির না করিয়া বলে রোগীকে বাঁচানো সম্ভব নয়। রোগীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হবে। এই বলে ডাক্তার শাহানা ফেরদৌসী আমার পেটের কাঁটা স্থানে কোন রকম সেলাই দিয়া আমাকে এম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুইদিন চিকিৎসারত থাকার পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত ডাক্তার আমার পেটের বাচ্চা ডেলিভারি করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমি ১২, দিন চিকিৎসারত ছিলাম এবং আমার ভূমিষ্ঠ কন্যা সন্তান প্রায় ১৫ দিন চিকিৎসারত ছিলো।
তখন আমি উক্ত ডাক্তার শাহানা ফেরদৌসী সহ হাসপাতাল মালিক কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার কথা বলিলে তাহারা আমাকে মামলা না করতে বলে। এবং আমার ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়ে দিবে মর্মে আশ্বাস দেয়। গত ইং ২৬/০৮/২০২৬ তারিখ বিকাল ০৫:৩০ ঘটিকার সময় উক্ত হাসপাতালে যাইয়া ডাক্তার শাহনাজ ফেরদৌসী সহ হাসপাতাল মালিক পক্ষের কাছে আমার ক্ষতিপূরণের টাকা চাহিলে তাহারা ক্ষতিপূরণ বাবদ মাত্র ১০,০০০/ হাজার টাকা সাধে।
আমি ইহাতে রাজি না হওয়ায় হাসপাতাল মালিক পক্ষ ক্ষিপ্ত হইয়া আমাকে বিভিন্ন রূপ হুমকি প্রদর্শন করিতে থাকে আমি হুমকির কারণে বর্তমান ভয় ভিতির মধ্য দিয়ে দিন পার করছি।
এ বিষয়ে ল্যাবজোন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ ওয়াকিলুর রহমান বলেন, মোছাঃ রোকসানা বেগম আমাদের হাসপাতালে সেবানিতে আসেন আমাদের ডাক্তার শাহানা ফেরদৌসী তার শারীরিক সকল টেস্ট দেখে অপারেশনের জন্য তাকে ওটিতে পাঠান। অপারেশন চলাকালীন সময়ে তার পরিবারের সদস্যকে জানানো হয় পাঁচ থেকে ছয় বেগ রক্তের প্রয়োজন তারা অপারগতার স্বীকার করিলে তখন ডাক্তার বলেন রোগীকে এই মুহূর্তে রক্ত না দিতে পারলে রুগীর মৃত্যু হয়ে যেতে পারে।
তাই পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক হাসপাতালের খরচে রোকসানাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে রেফার করা হয়। এবং ডাক্তার সাহানা ফেরদৌসী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরতদের সাথে আলাপ-আলোচনা করে রোগী রোকসানা বেগমের হিস্ট্রি লিখে ঢাকা মেডিকেল কলেজের কর্তব্যরতদেরকে পাঠান। এবং রোগীর সুবিধার্থে সার্বিক সহযোগিতা করা হয়। তিনি আরো বলেন আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আইনগতভাবে বিষয়টি তদন্ত করে জনসম্মুক্ষে উন্মোচন করা হোক।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ ফজলে বারী বলেন, আমরা বিষয়টি আমলে নিয়েছি আমাদের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে দেখব এখানে যথাযথ আইন মেনে কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে ভুক্তভোগী কে ওটিতে পাঠানো হয়েছে কিনা। এবং আগামী ০৭ দিনের মধ্যে তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।