সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশকে ঘিরে মিথ্যা তথ্য, গুজব, অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত চরিত্রহননের ঘটনা দিন দিন বেড়ে চলেছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক শামীমা পারভীন।
তিনি বলেন, আগে পুলিশের অপেক্ষাকৃত নিম্নপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চালানো হলেও বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের সর্বোচ্চ কর্মকর্তা আইজিপিকেও লক্ষ্য করে মিথ্যা গুজব ও অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে। একইভাবে সাভার মডেল থানার নবগঠিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল আলমকে নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন তথাকথিত সাংবাদিক, ব্যক্তিগত ও পরিচয়হীন পেজ-আইডি থেকে নিয়মিত মিথ্যা গুজব ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শামীমা পারভীন বলেন, এ ধরনের অপপ্রচারের উদ্দেশ্য শুধু কোনো একজন পুলিশ কর্মকর্তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা নয়; বরং এর মাধ্যমে পুরো পুলিশ বাহিনীকে বিতর্কিত করা এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের তৈরি হওয়া আস্থার সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে এ বিষয়ে একটি বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিবৃতিটি গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হওয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
শামীমা পারভীন বলেন, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য, গুজব ও অপপ্রচার ছড়াচ্ছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের বলা হয়েছে এবং কাজও চলছে।
তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশ পুলিশ আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করছেন। এমন পরিস্থিতিতে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পুলিশকে বিতর্কিত করতে এবং জনগণের সঙ্গে পুলিশের আস্থার সম্পর্ক নষ্ট করতে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য ছড়াচ্ছে।
বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে শামীমা পারভীন বলেন, ৫ আগস্টের পরের পরিস্থিতির তুলনায় বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেক উন্নত। মানুষ নিরাপদে নিজ নিজ বাসায় ঘুমাতে পারছে এবং স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করছে।
তিনি বলেন, একটি পুলিশ বাহিনী যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারে, তাহলে জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কঠিন। তাই পুলিশকে দায়িত্ব পালনে বাধাগ্রস্ত করা, বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা কিংবা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।
শামীমা পারভীন আরও বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল পুলিশ যাতে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে না পারে, জনগণের নিরাপত্তা যাতে বিঘ্নিত হয় এবং রাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়—সে লক্ষ্যেই অপতৎপরতা চালাচ্ছে। তবে বাংলাদেশ পুলিশ আইন অনুযায়ী কঠোর হাতে এসব অপতৎপরতা দমন করবে।