আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনসেবামূলক পুলিশিং কার্যক্রমে বিশেষ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন মোঃ সাইফুল আলম। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার তিনি সাভার মডেল থানার নতুন ওসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন।
ঢাকা জেলা পুলিশের প্রশাসনিক আদেশে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা থেকে তাকে সাভার মডেল থানায় পদায়ন করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিনি সাভারের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনার নেতৃত্বে আসেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় কর্মরত অবস্থায় মোঃ সাইফুল আলম অপরাধ দমন, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং জনবান্ধব পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তার নেতৃত্বে থানার কার্যক্রমে শৃঙ্খলা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া ফেলে। এসব অর্জনের ভিত্তিতেই জুলাই মাসের মাসিক কর্মমূল্যায়নে তিনি ঢাকা জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে নির্বাচিত হন।
তার নেতৃত্বের সাফল্যের আরেকটি দৃষ্টান্ত হলো একই থানার আরও পাঁচ কর্মকর্তার কৃতিত্ব অর্জন। মাসিক মূল্যায়নে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ, এসআই প্রাণ কৃষ্ণ অধিকারী, নিতাই দাস ও মনিরুল ইসলাম এবং এএসআই সুজেল মিয়া নিজ নিজ ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পান। একটি থানার ছয়জন কর্মকর্তা একসঙ্গে সম্মানিত হওয়ায় বিষয়টি জেলা পুলিশের মধ্যে বিশেষ আলোচনার জন্ম দেয়।
নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মোঃ সাইফুল আলম বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই একজন পুলিশ কর্মকর্তার সবচেয়ে বড় সাফল্য। তিনি সাভারে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত সাভারে প্রতিদিন হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান ও চলাচল রয়েছে। ফলে এখানকার নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, দীর্ঘ মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা এবং কর্মদক্ষতার কারণে মোঃ সাইফুল আলমের নেতৃত্বে সাভার মডেল থানার কার্যক্রম আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, নতুন ওসির নেতৃত্বে মাদক, কিশোর গ্যাং, চুরি, ছিনতাই ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধ দমনে কার্যকর উদ্যোগ আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনবান্ধব সেবার মাধ্যমে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।