
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাই অংশে হঠাৎ নেমে এলো এক বিভীষিকাময় স্তব্ধতা। মহাসড়কের মূল লেনে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী বাস মুহূর্তের মধ্যেই ঘটিয়ে দিল এক মারাত্মক শৃঙ্খল দুর্ঘটনা। একের পর এক চার-চারটি যানবাহনের মুখোমুখি ও পেছনে ধাক্কা লাগার এই মর্মান্তিক ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই তরুণ—আবাস সাহা ও সুজয় সাহা। সম্পর্কে তারা একে অপরের মামাতো-ফুফাতো ভাই।
শনিবার(২৫ জুলাই) সকালে ঢাকা থেকে মানিকগঞ্জগামী সড়কটিতে একটার পর একটা ভুল সিদ্ধান্ত আর অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক বিপর্যয়। মহাসড়কের ইসলামপুর এলাকায় যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়া বাসটি কোনো প্রকার সতর্ক সংকেত ছাড়াই মূল লেনে অবস্থান করছিল। দ্রুতগতিতে আসা একটি প্রাইভেটকার ঠিক শেষ মুহূর্তে বাসটিকে দেখতে পেয়ে আচমকা জরুরি ব্রেক কষে। প্রাইভেটকার রক্ষা পেলেও তার ঠিক পেছনে থাকা কাভার্ডভ্যানটিও নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে প্রাণপণ ব্রেক চাপে। কাভার্ডভ্যানের ঠিক পেছনে থাকা দুটি মোটরসাইকেলও পরিস্থিতির আকস্মিকতায় নিজেদের গতি থামিয়ে নিরাপদে দাঁড়িয়ে যায়।
কিন্তু কাল হয়ে দাঁড়ায় ঠিক তাদের পেছনে থাকা 'স্বাধীনতা পরিবহন'-এর লোকাল মিনিবাসটি। বেপরোয়া গতিতে ছুটে আসা মিনিবাসটি থামার কোনো সুযোগ না পেয়ে সরাসরি আছড়ে পড়ে সামনে থেমে থাকা মোটরসাইকেল দুটির ওপর। তীব্র ধাক্কায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় বাইক দুটি এবং আরোহীরা মহাসড়কের পিচঢালা পথে ছিটকে পড়ে রক্তভেজা হয়ে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হন। দুর্ঘটনায় দুর্ঘটনাকবলিত প্রতিটি পরিবহনই ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় জনতা মুহূর্তের মধ্যে উদ্ধার কাজে হাত বাড়ান এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত দুজনকে ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টার পরও শেষ রক্ষা হয়নি; হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই একে একে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন এই দুই ভাই। নিহতদের কাছে থাকা পরিচয়পত্র থেকে জানা যায়, আবাস সাহা মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজের স্নাতকোত্তরের ছাত্র ছিলেন এবং তাঁর বাড়ি সাভারের ডেন্ডাবর এলাকায়। অন্যদিকে সুজয় সাহা ছিলেন মানিকগঞ্জের শিবালয় এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী। দুই উদীয়মান মেধাবী তরুণের এমন করুণ বিদায়ে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের মাতম ছড়িয়ে পড়েছে।
খবর পেয়ে ধামরাই থানা ও সাভার হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো উদ্ধার করে। হাইওয়ে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, মূল লেনে বাস বিকল হয়ে পড়ে থাকা এবং কোনো সংকেত না দেওয়াই ছিল এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রধান অনুঘটক। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।