
ঢাকার ধামরাই উপজেলার কুল্লা ইউনিয়নের পাল্লী এলাকায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বৈদু্যতিক শর্ট সার্কিট থেকে সৃষ্ট এই আগুনে একটি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেলেও ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপ এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় বড় ধরনের কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হলেও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা অলৌকিকভাবে রক্ষা করেছেন অন্তত চার লাখ টাকার মালামাল।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, আজ ২২ জুলাই দুপুর ১২:০৭ মিনিটে ধামরাই ফায়ার স্টেশনে খবর আসে যে পাল্লী-কুল্লা এলাকার বাসিন্দা ময়নাল হোসেনের (৪৫) ২৫×১২ বর্গফুটের টিনশেড বসতঘরে আগুন লেগেছে। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই ধামরাই ফায়ার স্টেশনের স্টেশন অফিসার জনাব আল আমীন খান-এর নেতৃত্বে ০২টি স্পেশাল ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়।১৭ কিলোমিটার দূরত্বের পথ অতিক্রম করে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি দুপুর ১২:২০ মিনিটে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি পৌঁছায়। তবে সংকীর্ণ রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো সরাসরি দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি।দুর্ঘটনাস্থলের সংযোগ সড়কটি অত্যন্ত সরু ও অপ্রশস্ত হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের প্রধান গাড়িগুলো মূল সড়কে থামিয়ে রাখতে বাধ্য হন ফায়ার কর্মীরা। সেখান থেকে প্রায় ০১ কিলোমিটার দূরত্বের পথ অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম নিয়ে পায়ে হেঁটে দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছান তারা।পথের প্রতিকূলতা সত্ত্বেও স্টেশন অফিসার আল আমীন খানের দূরদর্শী নেতৃত্বে ফায়ার কর্মীরা স্থানীয় এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে দ্রুত আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করেন। মাত্র ২০ মিনিটের প্রচেষ্টায় দুপুর ১২:৪০ মিনিটে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপিত হয়। পরবর্তীতে দুপুর ০১:১০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের দল নিরাপদে স্টেশনে প্রত্যাবর্তন করে।
ধামরাই ফায়ার স্টেশনের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বসতঘরের ভেতর বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুনে ঘরটির অধিকাংশ মালামাল পুড়ে প্রায় ২,০০,০০০ (দুই লাখ) টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের চরম তৎপরতায় আশেপাশের বেশ কিছু বসতবাড়ি রক্ষা পায় এবং আনুমানিক ৪,০০,০০০ (চার লাখ) টাকার সম্পদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। দুর্ঘটনায় কোনো হতাহত বা আহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে ধামরাই ফায়ার স্টেশনের কর্মকর্তা জানান,"সংবাদ পাওয়ার পরপরই আমরা দ্রততম সময়ে রওয়ানা হই। কিন্তু ভেতরের রাস্তাটি অত্যন্ত সরু হওয়ায় গাড়ি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ফায়ার কর্মীরা কষ্ট করে প্রায় ১ কিমি হেঁটে সরঞ্জাম নিয়ে গিয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন সম্পূর্ণ নেভাতে সক্ষম হয়। গ্রামীণ রাস্তাগুলো কিছুটা প্রশস্ত থাকলে আরও দ্রুত অগ্নিনির্বাপণ কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হতো।"
ধামরাইয়ের স্থানীয় সচেতন মহল ফায়ার সার্ভিসের এই সাহসিকতা ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।