
ইসলামের ইতিহাসে শালীনতা, দানশীলতা ও কুরআনের সংরক্ষণে যাঁর অবদান যুগান্তকারী, তিনি হযরত উসমান ইবন আফফান (রাঃ)। তৃতীয় খলিফা হিসেবে তাঁর শাসনামল ছিল ইসলামী রাষ্ট্রের বিস্তার ও একই সঙ্গে গভীর ধৈর্যের এক পরীক্ষাময় সময়।
মক্কার কুরাইশ গোত্রের বনু উমাইয়া শাখায় জন্ম নেওয়া হযরত উসমান (রাঃ) ছিলেন সৎ ব্যবসায়ী ও বিনয়ী মানুষ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)–এর দুই কন্যার স্বামী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জনের কারণে তিনি ‘জুন্-নূরাইন’ উপাধিতে ভূষিত হন।
ইসলামের প্রথম যুগেই তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নির্যাতনের মুখেও দৃঢ় থাকেন। ইসলামের স্বার্থে স্ত্রীসহ হাবশা ও পরে মদিনায় হিজরত করেন—যা তাঁর ঈমানি ত্যাগের উজ্জ্বল নিদর্শন।
হযরত উসমান (রাঃ)-এর দানশীলতা ইতিহাসে কিংবদন্তি। মদিনার ‘বিরে রুমা’ কূপ ক্রয় করে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা এবং তাবুক অভিযানে বিপুল সম্পদ দান করে ইসলামী বাহিনীকে শক্তিশালী করা তাঁর মহৎ চরিত্রের প্রমাণ।
৬৪৪ খ্রিস্টাব্দে খলিফার দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর শাসনামলে ইসলামী রাষ্ট্র উত্তর আফ্রিকা ও ককেশাস পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। সবচেয়ে ঐতিহাসিক অবদান ছিল কুরআনের নির্ভুল সংকলন ও মানক পাঠ প্রবর্তন—যা ‘মুসহাফে উসমানি’ নামে পরিচিত।
শাসনামলের শেষদিকে বিদ্রোহ ও ষড়যন্ত্র বৃদ্ধি পেলেও তিনি রক্তপাত এড়াতে কঠোর অবস্থান নেননি। ধৈর্য ও সহনশীলতার মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।
৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে নিজ গৃহে কুরআন তিলাওয়াতরত অবস্থায় তিনি শাহাদাত বরণ করেন। মদিনার জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।
হযরত উসমান ইবন আফফান (রাঃ)-এর জীবন ইসলামে লজ্জাশীলতা, দান ও কুরআনের খেদমতের এক অনন্য অধ্যায়। তাঁর আদর্শ ও ত্যাগ যুগে যুগে মুসলিম উম্মাহকে পথ দেখাবে।
¹ ইমাম আল-বুখারি, সহিহ আল-বুখারি, কিতাবু মানাকিবুস সাহাবা।
² ইমাম মুসলিম, সহিহ মুসলিম, কিতাবু ফাজায়েলুস সাহাবা।
³ ইমাম ইবন কাসির, আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খণ্ড ৭।
⁴ আল-তাবারি, তারীখুর রাসুল ওয়াল মুলুক (তারীখুত তাবারি)।
⁵ ইমাম জালালুদ্দিন আস-সুয়ুতি, তারীখুল খোলাফা।
⁶ ড. আলি মুহাম্মদ আস-সাল্লাবি, সীরাতু আমিরিল মু’মিনিন উসমান ইবন আফফান (রাঃ)।