
"বিল দিচ্ছি প্রতি মাসে, কিন্তু ঘরে জ্বলে না উনুন। অথচ পাশের কারখানায় অবৈধ বুস্টারে ঠিকই হু হু করে গ্যাস যাচ্ছে!"—এমনই চরম ক্ষোভ আর বঞ্চনা থেকে ঢাকার ধামরাইয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় আবাসিক গ্যাস গ্রাহকেরা।
সোমবার (৬ জুলাই)সকাল ৯টার দিকে উপজেলার কালামপুর এলাকায় শুরু হওয়া আড়াই ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধে অচল হয়ে পড়ে মহাসড়ক, যার ফলে দুই পাশে তৈরি হয় মাইলের পর মাইল দীর্ঘ যানজট। ধামরাইয়ের গোয়ালদী, বাটুলিয়া, মহিশাষী এবং কাওয়ালীপাড়া থেকে সাটুরিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকার তিতাস গ্যাসের আবাসিক গ্রাহকেরা প্রায় দুই বছর ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগছেন। লাইনে গ্যাস না থাকলেও প্রতি মাসে নিয়মিত 'ভুতুড়ে' বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে গ্রাহকদের, আবার অন্যদিকে রান্নার জন্য বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার ও খড়ি কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের পকেট ফাঁকা হচ্ছে।
স্থানীয়দের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, কালামপুর ডিআরএসের পূর্ব পাশে থাকা একটি রি-রোলিং মিল এবং বিসিক এলাকার একটি সিরামিক কারখানা অবৈধ বুস্টার ব্যবহার করে অতিরিক্ত গ্যাস টেনে নেওয়ার কারণেই এই কৃত্রিম আবাসিক সংকট তৈরি হয়েছে।
অবরোধে অংশ নিয়ে কালামপুর এলাকার গৃহবধূ আনজুমা বেগম ও রাবেয়া আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকালে ঠিকমতো রান্না করতে না পেরে সন্তান ও স্বামীদের না খেয়েই স্কুল ও কর্মস্থলে পাঠাতে হয়েছে। তাদের সাফ দাবি, বাসায় পর্যাপ্ত গ্যাস দিতে হবে, ব্যবহার অনুযায়ী সঠিক বিলিংয়ের জন্য দ্রুত আবাসিক গ্যাস মিটার স্থাপন করতে হবে এবং যত দিন তারা গ্যাস পাননি তত দিনের বিল সম্পূর্ণ মওকুফ করতে হবে।
এদিকে আকস্মিক এই সড়ক অবরোধের কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী। মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী যাত্রী মাইদুল ইসলাম তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কয়েকশো মানুষের সড়ক অবরোধের কারণে সাধারণ হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। পরবর্তীতে ধামরাই থানা ও গোলড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে এবং উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে বিষয়টি দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিলে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক ছেড়ে দেন।
প্রশাসন ও পুলিশের আশ্বাসের পর দীর্ঘ আড়াই ঘণ্টা পর ধীরগতিতে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে, তবে অভিযুক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।