
ঢাকার ধামরাইয়ে উচ্ছেদ অভিযানে হামলার ঘটনার পর দ্বিতীয় দিনেও ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে প্রশাসন।
আজ বুধবার (২৪ জুন) কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশ থেকে শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ও হকারদের দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছে।
আজ দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার ঢুলিভিটা এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করে মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং ধামরাই উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সওজের নয়ারহাট শাখার উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নুর আলম সিদ্দিকী এবং ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিদওয়ান আহমেদ রাফি।
অভিযান চলাকালীন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন ঢাকা-২০ (ধামরাই) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব তমিজ উদ্দিন এবং ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন।
প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, আজ ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে শুরু করে কেলিয়া এলাকার স্নোটেক্স গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা হকারদের প্রায় শতাধিক অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা সম্পূর্ণভাবে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকালের অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার ঘটনার কারণে আজ পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে এই অভিযান চালানো হয়।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, "ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড ধামরাইয়ের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম স্থান। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চলাচল করে। অবৈধ ও অস্থায়ী স্থাপনা সরানোর জন্য আমরা এর আগে একাধিকবার মাইকিং ও নোটিশ দিয়ে সতর্ক করেছিলাম। কিন্তু দখলদাররা তা আমলে না নেওয়ায় আজ এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।"
তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং মহাসড়কে পুনরায় দখল ঠেকাতে এই অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া গতকাল সরকারি কাজে বাধা ও সওজ কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই ধামরাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য জানান, ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ দখলের কারণে তীব্র যানজট ও জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছিল। সড়ক বিভাগের জায়গা উদ্ধার করে সম্পূর্ণ জনস্বার্থে ব্যবহার এবং মহাসড়ককে যানজটমুক্ত করার লক্ষ্যেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও সড়ক বিভাগের এই যৌথ উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে পুরো ধামরাই এলাকায় চলমান থাকবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গতকাল মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে একই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালানোর সময় স্থানীয় কিছু অবৈধ দখলদার ও হকাররা উচ্ছেদকারী দল এবং বুলডোজারের ওপর অতর্কিত ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। সেই হামলায় বুলডোজার চালক মনির হোসেন ও কার্যসহকারী আব্বাস উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হন, যার প্রেক্ষিতে গতকালের অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।