
পূর্বঘোষিত নোটিশের তোয়াক্কা না করেই সরকারি জায়গা দখল করে রাখা হয়েছিল বছরের পর বছর। কিন্তু সেই অবৈধ সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে যখনই চলল বুলডোজার, তখনই বাধল বিপত্তি। ঢাকার ধামরাইয়ে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। অবৈধ দখলদার ও ব্যবসায়ীদের ছিটানো ইটের আঘাতে উচ্ছেদ কাজে ব্যবহৃত লোবেট (ভেকু) চালকের মাথা ফেটে রক্তাক্ত হয়েছেন তিনি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে ধামরাই পৌরসভার ব্যস্ততম ঢুলিভিটা এলাকার স্নোটেক্স সংলগ্ন ও আমিন মডেল টাউন কাঁচাবাজার সড়কে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে।
মানিকগঞ্জ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ধামরাইয়ের ঢুলিভিটা এলাকার মহাসড়ক ও সংযোগ সড়কের দুই পাশ দীর্ঘ দিন ধরে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও ব্যবসায়ী অবৈধভাবে দখল করে রেখেছিলেন। গড়ে তোলা হয়েছিল স্থায়ী-অস্থায়ী অসংখ্য দোকানপাট ও স্থাপনা, যার ফলে নিত্যদিন লেগে থাকত তীব্র যানজট। এই অবৈধ স্থাপনাগুলো নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার জন্য সওজ-এর পক্ষ থেকে সাত দিন আগে সংশ্লিষ্ট দোকান মালিক সমিতিকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হয়।
তবে নোটিশের নির্ধারিত সময় পার হলেও দখলদাররা জায়গা খালি না করায় আজ দুপুরে ধামরাই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেদওয়ান আহমেদ রাফির নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে নামে। এ সময় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং সওজ-এর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানের শুরুতে ভেকু (বুলডোজার) দিয়ে কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে উচ্ছেদে বাধা দিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও দোকান মালিক সমিতির একাংশ লাঠিসোঁটা নিয়ে সড়কে নেমে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, উচ্ছেদ ঠেকাতে মরিয়া হয়ে ওঠা ব্যবসায়ীদের একটি পক্ষ হঠাৎ করেই অভিযান পরিচালনাকারী দল ও সরকারি যান্ত্রিক যানের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। আচমকা এই 'ইটবৃষ্টির' মধ্যে পড়ে যান ভেকুর চালক। একটি ভারী ইটের টুকরো সরাসরি তার মাথায় এসে লাগলে মুহূর্তের মধ্যে মাথা ফেটে রক্তাক্ত হন তিনি।
বুলডোজার চালক গুরুতর আহত হওয়ার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। আহত চালককে দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। অনাকাঙ্ক্ষিত এই হামলার মুখে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার স্বার্থে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাময়িকভাবে উচ্ছেদ কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সরকারি কাজে বাধা ও প্রশাসনের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রেদওয়ান আহমেদ রাফি অত্যন্ত কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "সড়ক সচল করতে এবং জনস্বার্থেই এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছিল। কিন্তু সরকারি কাজে এমন বর্বর বাধা এবং হামলার ঘটনা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করা হচ্ছে। আইন অমান্যকারী ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ঘটনার পর ঢুলিভিটা ও আমিন মডেল টাউন এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তবে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে খুব শীঘ্রই আবার এই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।