প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ২৫, ২০২৬, ৮:০৫ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ১৯, ২০২৬, ১২:৩৮ পি.এম
ঈদযাত্রার চাপ চরমে, ট্রেনের ছাদে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বাড়ি ফেরা

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন এখন যেন জনসমুদ্র। শেষ মুহূর্তে ঘরমুখো মানুষের ঢল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। অতিরিক্ত ভিড়ের চাপে ট্রেনের ভেতরের জায়গা ছাড়িয়ে যাত্রীরা উঠে পড়ছেন ছাদেও জীবনের ঝুঁকি নিয়েই ছুটছেন প্রিয়জনের কাছে।
স্টেশনজুড়ে মানুষের ঢল
বুধবার সকাল থেকেই স্টেশনে দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন ও উপচে পড়া ভিড়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ট্রেন ছাড়লেও প্রায় প্রতিটি ট্রেনই ছেড়েছে ধারণক্ষমতার বহু বেশি যাত্রী নিয়ে। সকাল ৯টা পর্যন্ত অন্তত ১০টি ট্রেন বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে গেছে।
বিশেষ করে পারাবত এক্সপ্রেস ও নীলসাগর এক্সপ্রেস-এর ছাদে যাত্রী ওঠার দৃশ্য ছিল চোখে পড়ার মতো।
ছাদে ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা
টিকিট সংকট ও অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে অনেকেই বাধ্য হচ্ছেন স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়ে যাত্রা করতে। ভেতরে জায়গা না পেয়ে তারা বেছে নিচ্ছেন ট্রেনের ছাদ যেখানে সামান্য ভুলেই ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
এক যাত্রী বলেন, ঝুঁকি জানি, তবুও উপায় নেই ঈদে বাড়ি যেতেই হবে।
নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা, মানবিক ছাড়
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই ছাদে ওঠা বন্ধে কড়াকড়ি আরোপ করলেও শেষ মুহূর্তের চাপে তা কার্যকর রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। টিকিট ছাড়া স্টেশনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হলেও নির্ধারিত সময়ের দুই ঘণ্টা আগে স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হচ্ছে, যা কিনতে যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে।
এক কর্মকর্তা জানান, চাপ এত বেশি যে অনেক সময় মানবিক কারণে কিছুটা ছাড় দিতে হচ্ছে, যাতে মানুষ অন্তত বাড়ি পৌঁছাতে পারে।
ভোগান্তিতে বৈধ যাত্রীরাও
শুধু ছাদে ওঠা যাত্রী নয়, ভিড়ের চাপে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন বৈধ টিকিটধারীরাও। কোচের ভেতরে তীব্র গরম ও গাদাগাদি অবস্থায় নারী ও শিশুদের নিয়ে যাত্রা করা হয়ে উঠেছে অত্যন্ত কষ্টকর।
এক যাত্রী বলেন, সিটে বসে থাকাই কঠিন, নড়াচড়ার জায়গা নেই তবুও বাড়ি ফেরার আনন্দে কষ্ট সহ্য করছি।
Copyright © 2026 Protidiner Savar. All rights reserved.