বিশেষ করে সাভার, আশুলিয়া ও ঢাকার বিভিন্ন সড়কে দেখা যাচ্ছে পুরনো বাস, লক্কড়-ঝক্কড় মিনিবাস, লেগুনা ও ট্রাক যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব গাড়ির অনেকগুলোরই বৈধ ফিটনেস সনদ নেই বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাভার বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় পরিবহন শ্রমিক আব্দুল জলিলের সঙ্গে। তিনি বলেন, “ঈদের সময় যাত্রী অনেক বেশি থাকে। তখন মালিকরা বেশি ট্রিপ দেওয়ার জন্য পুরনো গাড়িও রাস্তায় নামিয়ে দেন। কিন্তু অনেক গাড়ির ব্রেক ঠিকমতো কাজ করে না, টায়ারও পুরনো থাকে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।”
একই ধরনের কথা বলেন বাসচালক মো. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, “আমরা চালকরা চাই নিরাপদ গাড়ি চালাতে। কিন্তু অনেক সময় মালিকপক্ষের চাপ থাকে দ্রুত গাড়ি নামানোর জন্য। ফলে ফিটনেস ঠিকমতো পরীক্ষা করা হয় না। ঈদের আগে যদি কর্তৃপক্ষ কঠোর নজরদারি করত, তাহলে ভালো হতো।”
পরিবহন শ্রমিকদের মতে, ঈদ মৌসুমে যাত্রীচাপ সামাল দিতে অনেক মালিক অতিরিক্ত আয়ের আশায় পুরনো ও ফিটনেসবিহীন গাড়িও সড়কে নামিয়ে দেন। এতে যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
অন্যদিকে সাধারণ যাত্রীরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আশুলিয়ার বাসিন্দা মো. রাশেদ বলেন, “আমরা পরিবারের সঙ্গে বাড়ি ফিরতে চাই নিরাপদে। কিন্তু অনেক বাস দেখলেই বোঝা যায় এগুলো চলার মতো অবস্থায় নেই। জানালার কাচ ভাঙা, সিট নষ্ট, ব্রেক ঠিক নেই। এসব গাড়িতে উঠতে ভয় লাগে।”
সাভারের আরেক যাত্রী শামীমা আক্তার বলেন, “ঈদের সময় বিকল্প কম থাকে বলে বাধ্য হয়ে এসব গাড়িতে উঠতে হয়। কিন্তু দুর্ঘটনার ভয় সব সময়ই থাকে। সরকার যদি আগে থেকেই অভিযান চালিয়ে ফিটনেসবিহীন গাড়ি বন্ধ করত, তাহলে যাত্রীরা স্বস্তিতে বাড়ি যেতে পারত।”
স্থানীয় এক পরিবহন হেলপার আল আমিন বলেন, “অনেক গাড়ির কাগজপত্র ঠিক নেই, কিন্তু ঈদের সময় এগুলো চলতেই থাকে। কারণ তখন যাত্রী বেশি থাকে। আমরা চাই সব গাড়ির ফিটনেস ঠিক থাকুক, তাহলে দুর্ঘটনাও কমবে।”
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে সচেতন নাগরিকরাও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। তাদের মতে, ঈদ মৌসুমে ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধে কঠোর নজরদারি জরুরি। অন্যথায় অতিরিক্ত যাত্রীচাপের সঙ্গে এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন মিলিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়।
সাধারণ মানুষের দাবি, ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সড়কে চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে চালকদের সচেতনতা বাড়ানো এবং অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি থাকলে ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে নামার সুযোগ কমে যাবে। এতে ঈদ যাত্রা হবে আরও নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক।