প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ১৩, ২০২৬, ১১:০৩ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৭, ২০২৬, ১০:৪২ এ.এম
হামলার ঘটনায় থানায় অভিযোগের জেরে জুট ব্যবসায়ীর গোডাউন লুট

আশুলিয়ার জামগড়ায় চাঁদা না দেওয়ার অপরাধে এক জুট ব্যবসায়ীর ছেলে সহ দুইজনকে কুপিয়ে জখম করার পর থানায় অভিযোগ দেওয়ায় প্রকাশ্যে গোডাউন লুটের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের উপস্থিতি ও আশ্বাসের পরপরই সংঘটিত এই লুণ্ঠনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামগড়া ভূঁইয়া পাড়া এলাকায় এ হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করার কিছুক্ষণের মধ্যেই সন্ত্রাসীরা নির্বিঘ্নে গোডাউনে ঢুকে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় মারুফ ভূঁইয়া ও তার সহযোগীরা জুট ব্যবসায়ী আইয়ুব আলীর কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে আসছিল। দাবি পূরণ না হওয়ায় বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে আইয়ুব আলী ও তার বন্ধু আরিয়ানের ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালানো হয়। সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি কোপে দুজনই গুরুতর আহত হন।
আহত আইয়ুব আলী অভিযোগ করে বলেন, হামলার পর রাতেই থানায় গেলে পুলিশ চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলে ফেরত পাঠায়। ধামরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে থানায় ফিরে গেলে ‘রাইটার নেই’ অজুহাতে সারারাত থানার সামনে বসিয়ে রাখা হয়। শুক্রবার সকালে লিখিত অভিযোগ গ্রহণের পর তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফরিদুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, পুলিশ চলে যাওয়ার পরই মারুফ ভূঁইয়া ও তার দলবল আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আইয়ুব আলীকে না পেয়ে তারা তার জুটের গোডাউনে ঢুকে প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আইয়ুব আলী বলেন,থানায় অভিযোগ করাই আমার সবচেয়ে বড় অপরাধ হয়ে গেছে। মারুফ ভূঁইয়া আমাকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। পুলিশ এসে অভয় দিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই লুটপাট হলো। আবার পুলিশ ডাকলেও তারা এসে দাঁড়িয়ে থেকে চলে গেছে। বাস্তবে আমাদের কেউ রক্ষা করছে না।
এ বিষয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই ফরিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছেন এবং হামলাকারীরা দুর্ধর্ষ প্রকৃতির। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, অভিযোগ, হামলা, পুলিশি পরিদর্শন এবং প্রকাশ্য লুটপাটের পরও কেন এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল হাওলাদার বলেন, ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে পুরো জামগড়া এলাকা এখন আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চক্র ও পুলিশের রহস্যজনক নীরবতার কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দমন এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী।
Copyright © 2026 Protidiner Savar. All rights reserved.